ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ চিনিকলের শতহা শালবনের প্রায় ২৫ লাখ টাকার কাঠখড়ি তিন বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। দরপত্র আহ্বান করে বিক্রি করা হলেও চিনিকল ও বন বিভাগের মধ্যে রশি টানাটানির কারণে সেগুলো নিয়ে যেতে পারেননি নিলামগ্রহীতা।
সেতাবগঞ্জ চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১ মে রাত আটটার দিকে প্রচণ্ড ঝড়ে ওই শালবন লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এতে অসংখ্য শালগাছ উপড়ে পড়ে এবং ডালপালা ভেঙে যায়। কর্তৃপক্ষ ভেঙে পড়া গাছ ও ডাল চিনিকল চত্বরে নিয়ে এসে রেখে দেয়।
সেতাবগঞ্জ চিনিকলের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) আতাউর রহমান বলেন, ‘বাগান থেকে শালকাঠগুলো মিল চত্বরে এনে জমা করার পর দরপত্র আহ্বানের অনুমতি পাওয়ার জন্য বন বিভাগ ও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থায় চিঠি চালাচালি করতেই প্রায় দুই বছর সময় পার হয়ে গেছে। তবে অনুমতি পাওয়ার পর আমরা সময় নষ্ট করিনি। দ্রুত দরপত্র আহ্বান করেছি।’
দিনাজপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আলী কবীর গত শনিবার বলেন, ‘শালগাছ যেখানেই থাকুক, সেটি বন বিভাগের সম্পদ। শালবন থেকে কাঠ বের করাসহ বিক্রয় কর্মকাণ্ডের (দরপত্র) সঙ্গে বন বিভাগের প্রতিনিধিকে রাখার বিধান থাকলেও বন বিভাগের অনুমতি না নিয়েই চিনিকল কর্তৃপক্ষ ২০১২ সালে নিজেরাই পীরগঞ্জের শতহা শালবনের কাঠগুলো কেটে নিয়ে এসেছে। দরপত্র আহ্বান ও মূল্য নির্ধারণ—সবকিছু নিজেরাই করেছে। সে কারণে চলমান পাস প্রদান বিলম্বিত হয়েছে। তবে জেলা সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত হলে আমি চলমান পাস দিয়ে দেব।’
বন বিভাগকে সম্পৃক্ত না করার বিষয়ে সেতাবগঞ্জ চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (এমডি) শহীদ উল্লাহ বলেন, ‘২০১২ সালের ১ মে ঝড়ের পর লন্ডভন্ড শালবনের কাঠ চুরি হতে থাকে। মানুষ দিনে-রাতে কাঠ কেটে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বন বিভাগকে নিয়ে কমিটি করতে বা নিয়মমাফিক এগোতে গেলে শালবনের কাঠ লুটপাট হয়ে যেত। তাই আমরা লিখিতভাবে বন বিভাগ ও চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থাকে জানিয়ে দ্রুত বাগান থেকে কাঠগুলো তুলে নিয়ে এসেছি। তবে পরবর্তী কাজগুলো নিয়মানুযায়ীই করে যাচ্ছি।’
চিনিকলের এমডি শহীদ উল্লাহ জানান, তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দিনাজপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ২০১৩ সালের ২০ মার্চ প্রতি ঘনফুট শালকাঠের মূল্য ২৭৫ টাকা এবং প্রতি মণ খড়ির মূল্য ৩০ টাকা হারে নির্ধারণ করে দেন। শতহা শালবন থেকে সংগৃহীত হয়েছে ৬ হাজার ২৬৭ ঘটফুট কাঠ এবং ১৮০ মেট্রিক টন খড়ি। সে অনুযায়ী শালকাঠ ও খড়ির মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২০ লাখ টাকা।
চিনিকলের হিসাব ও কৃষি শাখার দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কাঠের দাম ২৫ লাখ টাকারও বেশি হবে। কেননা, প্রতি ঘনফুট শালকাঠের বাজারদর আট-নয় শ টাকারও বেশি।
চিনিকলের বাণিজ্যিক সহকারী মো. নজরুল ইসলাম জানান, গত বছরের ১৯ মার্চ কাঠ বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে নিলামকৃত কাঠ না নিতে পারায় গত ৭ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মো. ফরিদের জামানত বাজেয়াপ্ত করে কর্তৃপক্ষ। দ্বিতীয়বার দরপত্র আহ্বান করা হয় গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর। সর্বোচ্চ দর দাখিল করা হয় ৯ লাখ ২০ হাজার ৯৩৩ টাকা। চিনিকলের বিক্রয় কমিটি ওই দর গ্রহণ না করায় ২২ অক্টোবর তৃতীয় দফা দরপত্র আহ্বান করে। ওই দরপত্রে অংশ নিয়ে সেতাবগঞ্জের ধনতলা মহল্লার মেসার্স খায়রুল আলম বাদশা নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১০ ডিসেম্বর কাঠ কেনার কার্যাদেশ লাভ করে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন