অর্থনৈতিক উন্নয়নে দেশের বিশাল সমুদ্র সম্পদের যথাযথ আহরণ ও সংরক্ষণের পাশাপাশি এর সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে দেশ তার সমুদ্র সম্পদ যত সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম, সে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তত দ্রুত এগিয়ে যায়। অভ্যন্তরীণ পানিসম্পদ রক্ষা, নৌপথের নিরাপত্তা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের অপরাধ দমনে প্রয়োজন একটি শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা।
গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদর দপ্তরে বাহিনীর ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন ও ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি কোস্টগার্ড সদস্যদের ‘সাগরে অভিভাবক’ (গার্ডিয়ান অ্যাট সি) মূলমন্ত্র এবং ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই স্বীকৃতি এ বাহিনীর সদস্যদের কর্মকাণ্ড ও কল্যাণমূলক কাজ এগিয়ে নিতে উৎসাহিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মকবুল হুসাইনের কাছে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড হস্তান্তর করেন। দীর্ঘ পেশাদারি অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার পাশাপাশি দেশের মৎস্য ও উপকূলীয় বনসম্পদ রক্ষা এবং মাদক চোরাচালান রোধে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে কোস্টগার্ডকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা সাহসিকতা ও অসামান্য কর্মকাণ্ডের জন্য কোস্টগার্ডের ৩৫ জন কর্মকর্তা ও নাবিককে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পদক, প্রেসিডেন্ট কোস্টগার্ড পদক, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড (সেবা) পদক ও প্রেসিডেন্ট কোস্টগার্ড (সেবা) পদক প্রদান করেন।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও সাংসদ, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনীতিক এবং জ্যেষ্ঠ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী কোস্টগার্ডের প্রধান কার্যালয় চত্বরে একটি ফলদ বৃক্ষের চারা রোপণ ও কেক কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গোপসাগর হচ্ছে অঢেল সম্পদের ভান্ডার। প্রতিবেশী মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় সমুদ্র সম্পদের ওপর বাংলাদেশের অধিকার সম্প্রসারিত হয়েছে। এ সম্পদ রক্ষায় কোস্টগার্ডকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
কোস্টগার্ড সুন্দরবন অঞ্চলে জলদস্যুতা প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী অভিযান, ইলিশের জাটকা ও রেণু শিকার বন্ধের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই বাহিনী পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরের নিরাপত্তায় ভূমিকা পালন করবে।
কোস্টগার্ড উন্নয়ন লক্ষ্য-২০৩০ বাস্তবায়নে সরকারের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই পরিকল্পনার আওতায় হাই স্পিডবোট ক্রয় এবং অনেক নতুন স্টেশন স্থাপিত হয়েছে। নতুন জনবল নিয়োগ হয়েছে এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন