বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সরকারি অর্থ থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে কর্মকর্তাদের বিজ্ঞাপন প্রকাশ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ সোমবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।

রুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ পাওয়ায় সরকারি খরচে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অভিনন্দন জানিয়ে বিজ্ঞাপন ছাপানো কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, তথ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. কাজী মোস্তফা সারোয়ারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মো. মুরাদ হাসান নিয়োগ পাওয়ায় অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বরাতে গত ৯ জানুয়ারি তিনটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন ছাপা হয়। ওই বিজ্ঞাপন প্রকাশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল রোববার হাইকোর্টে রিট করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।

পরে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দপ্তরেই তাঁদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাতে পারেন, যা এর আগে প্রচলিত ছিল। তবে সরকারি তহবিল থেকে জনগণের করের অর্থ দিয়ে নিজেদের স্বার্থে অভিনন্দন জানিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে, যা তোষামোদীর লক্ষণ। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে এটি তাঁর দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে না, যা সংবিধানের ২১, ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এসব যুক্তিতে রিটটি করা হলে আদালত ওই রুল দেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0