সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন আরও বলেন, করোনা মহামারির কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে সমাপনী পরীক্ষা আপাতত বন্ধ থাকায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান কার্যক্রম বন্ধ আছে। তবে সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি কার্যক্রম চলমান।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন চলমান স্কুল ফিডিং কর্মসূচি ৩০ জুন শেষ হবে। এ বিষয়ে নতুন প্রকল্প নেওয়ার লক্ষ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হওয়ার পর সুপারিশের আলোকে পুরো দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের স্কুল ফিডিংয়ের জন্য নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

দেশে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা প্রায় আট হাজার

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মনজুর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, দেশে মোট এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার সংখ্যা ৭ হাজার ৯৫৫। মাদ্রাসাগুলোতে প্রায় ৩৯ লাখ ১৫ হাজার ১৩৩ জন শিক্ষার্থী আছে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। চলমান নীতিমালার আলোকে যোগ্যতার ভিত্তিতে এমপিওবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা হয়ে থাকে। সে অনুযায়ী যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত নয়, সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, ঢাকার স্কুলে শিক্ষার্থীর চাপ কমাতে সরকার রাজধানীর আশপাশের এলাকাগুলোতে ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই বিদ্যালয়গুলো হবে কেরানীগঞ্জ, পূর্বাচল, জালকুড়ি, নবীনগর, ধামরাই, হেমায়েতপুর, জোয়ারসাহারা, সাতারকুল, আশুলিয়া ও চিটাগাং রোডে।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারীর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, ‘শিক্ষা আইন, ২০২১’ শীর্ষক পরিমার্জিত খসড়া আইনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক গঠিত ‘আইনের খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক মতামত প্রদানসংক্রান্ত কমিটি’-তে প্রেরণ করা হয়। খসড়া আইনটির ওপর গত বছরের ১৩ অক্টোবর কমিটি সভা করে। ওই সভার সিদ্ধান্তের আলোকে প্রস্তাবিত আইন পুনর্গঠন বা করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের প্রধানদের সমন্বয়ে গত ২৬ জানুয়ারি ভার্চ্যুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা আইন পুনর্গঠন বা করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে অতিরিক্ত সচিবের (নিরীক্ষা ও আইন) সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা সম্পর্কিত আইনগুলো প্রস্তাবিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় আছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে মতামত প্রদান করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরপ্রধান বরাবর পত্র পাঠানো হয়। তৎপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ), কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে মতামত পাওয়া গেছে। ২৩ জুন প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনাপূর্বক ‘শিক্ষা আইন, ২০১১’–এর খসড়াটি চূড়ান্ত করে নীতিগত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে।

শিক্ষাকে সহজলভ্য করতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিস্টার ফি কমানোর পরিকল্পনা আছে কি না, জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক ইতিমধ্যে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি কাঠামো সংগ্রহ করে পর্যালোচনার কাজ চলছে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ জানান, ২০২১–২২ অর্থবছরে ‘ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান’ শীর্ষক কর্মসূচিতে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। পরবর্তী সময়ে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকাসহ মোট ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। প্রাপ্ত অর্থ দেশের ৬৩টি জেলায় ভিক্ষুক পুনর্বাসনসহ চারটি জেলায় পাঁচটি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে ভিক্ষুকদের সাময়িক আশ্রয়ের নিমিত্তে ১৬টি টিনশেড বাড়ি তৈরি ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য মালামাল ক্রয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে। ভিক্ষুক পুনর্বাসনের কাজ চলমান।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন