বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনা লিখেছেন, ‘কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের প্রচেষ্টা ছিল, মানুষের চাহিদার দিকে লক্ষ রেখে জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয় করা। এরপর ব্যবসাকে প্রণোদনা দেওয়া, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমরা খুব দ্রুত ৪ কোটি বা দেশের এক–চতুর্থাংশ মানুষের মধ্যে অর্থ বিতরণসহ বিভিন্ন সহায়তা দিই। মোট ২২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা আমাদের জিডিপির প্রায় ৬ দশমিক ২ শতাংশের এ সহায়তা ২৮টি পৃথক প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আমরা আরও কয়েক শ কোটি মার্কিন ডলার টিকা ক্রয় ও অন্যান্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যয় করেছি।’

করোনার অমিক্রন ধরন এলে প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রতি জনগণের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, সরকারের নীতি হচ্ছে কেউ ক্ষুধার্ত থাকবে না। এ নীতির আলোকে ১৬ দশমিক ৮ মিলিয়ন পরিবারকে চাল, শিশুখাদ্য ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা লিখেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী স্মরণে মহামারির আগেই গৃহহীনদের জন্য বাড়ির নির্মাণকাজ সম্প্রসারিত করা হয়। কার্যক্রমটি মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যাপক অবদান রাখে। এ ছাড়া সরকার করোনাকালে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও তার কর্মীদের নানাভাবে সহায়তা দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ায়। বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও সহায়তা পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমরা কখনো নিজেদের ওপর বিশ্বাস হারাইনি। আমাদের জনগণকে সক্রিয় রেখেছি। আমরা পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করেছি। সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে যাঁরা গেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করেছি। আমরা সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন সুবিধা স্থাপন করেছি। আমরা ৬ হাজার ২০০ চিকিৎসক, ১০ হাজার নার্স ও ৩ হাজার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকর্মী নিয়োগ করেছি। পরিশেষে এটাও ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য যে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা এ বছরগুলোতে স্থানীয় পর্যায়ে বিনিয়োগের মাধ্যমে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা টেকসই রাখতে পেরেছি।’

শেখ হাসিনা আরও লিখেছেন, নতুন উদ্যোগ ও অতীতের বিনিয়োগের সংমিশ্রণ অগণিত জীবন বাঁচিয়েছে। দেশের অর্থনীতি এ প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম হয়েছে। গত বছরের নভেম্বর থেকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ২ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের পাঁচটি দ্রুততম ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির মধ্যে একটি। গত ১০ বছরের বেশি সময় বাংলাদেশ তার দারিদ্র্যের হার ৩১ দশমিক ৫ থেকে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। মাথাপিছু আয় এক দশকে তিন গুণ বেড়ে ২ হাজার ২২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘মহামারি আমাদের অগ্রগতিতে বাধা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।’

শেখ হাসিনা লিখেছেন, ডিজিটাল পদ্ধতি গ্রহণ ও অভিজ্ঞতা অর্জনে বাংলাদেশ বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ উদ্যোগ অর্থনীতিকে রূপান্তর ও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। এটি কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইকে সহজ করে তুলেছে। অধিকাংশ বাংলাদেশিরা এখন তাদের স্মার্টফোনের ওপর নির্ভর করে। এর মাধ্যমে প্রতি মিনিটে মহামারি সম্পর্কে তাদের অবহিত রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে অন্যতম দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে একটি হতে অনেক দূর পাড়ি দিয়ে এসেছে। এ বছর নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করছে। এখন আমরা ২০২৬ সালের মধ্যে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশে উত্তরণের পথে রয়েছি। গত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ মহামারি সত্ত্বেও এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে। মানুষের সম্পৃক্ততাই এ পরিবর্তনকে সম্ভব করেছে।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন