default-image
>
  • এক সপ্তাহ ধরে চলা ছাত্র বিক্ষোভ বন্ধে এখন পর্যন্ত সমাধান খুঁজে পায়নি সরকার
  • ট্রাফিক সপ্তাহ পালনের ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ
  • সরকার উভয়সংকটে পড়েছে

নিরাপদ সড়কের দাবিতে টানা এক সপ্তাহ ধরে চলা ছাত্র বিক্ষোভ বন্ধে এখন পর্যন্ত সমাধান খুঁজে পায়নি সরকার। একের পর এক উদ্যোগ ও আহ্বানে সুফল মিলছে না। শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা, তাদের ফিরিয়ে নিতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি সরকারের আহ্বান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার উদ্যোগ-কোনো কিছুতেই আন্দোলন থামছে না, বরং ক্রমাগত তা বেড়েই চলছে।

সর্বশেষ গতকাল শনিবার মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার থেকে ট্রাফিক সপ্তাহ পালনের ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। কাল সোমবার মন্ত্রিসভায় উঠবে সড়ক নিরাপত্তা আইন। সরকার এখন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক-এই তিন উপায়ের সমন্বয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উপায় খুঁজছে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, চলমান পরিস্থিতিতে সরকার উভয়সংকটে পড়েছে। শিশু-কিশোরদের ওপর বল প্রয়োগ না করে সমাধান চাইছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা রাজপথ ছাড়ছে না, শিগগির সেই সম্ভাবনাও নেই।

সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, একদিকে নির্বাচনের বছর, অন্যদিকে ছাত্রদের ওপর বল প্রয়োগের বিষয়টি ‘স্পর্শকাতর’। তাই সরকার অনেক বিকল্প মাথায় নিয়ে এগোচ্ছে।

কীভাবে ছাত্রদের ঘরে ফেরাবেন, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি এখন রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে হচ্ছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসার অপেক্ষায় আছি। আশা রাখি দু-এক দিনের মধ্যে সমাধান আসবে।’

সরকার মনে করছে, চলমান ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে অছাত্র, স্বার্থান্বেষী মহল ও ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ ঢুকে পড়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। কারণ এই আন্দোলনের মধ্যে রাজনৈতিক অপশক্তি ঢুকে গেছে।’ তিনি এ ব্যাপারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে তাদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানান।

গতকাল ধানমন্ডি, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, মিরপুরসহ ঢাকার কিছু এলাকায় ছাত্রলীগ মাঠে নামায় সহিংসতার আশঙ্কা বেড়েছে। গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী এলাকায় শ্রমিকেরা মহড়া দিচ্ছেন, তাঁরাও মাঠে নামতে চাইছেন। এতে পরিস্থিতি সংঘাতময় হয়ে ওঠার আশঙ্কা বাড়ছে।

সরকারের একাধিক মন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, এ আন্দোলন চলতে দেওয়া যাবে না। আবার জোর করে থামানো ঝুঁকিপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে সবাই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সংকেত পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

মন্ত্রীদের কেউ কেউ বলছেন, সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনিক বিভিন্ন উদ্যোগ চলছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সব জেলা প্রশাসককে শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদের সঙ্গে বসতে বলেছি। শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে শ্রেণিকক্ষে ফেরাতে শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সহযোগিতা নেবে জেলা প্রশাসন।’

জানতে চাইলে শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকার শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। তাদের দাবির বাস্তবায়ন শুরু হয়ে গেছে। তারপরও বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আমরা শঙ্কিত। তাই আমরা আবারও শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার আহ্বান জানাই।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0