সিরাজগঞ্জে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু অবরোধ ও হরতালের কারণে দামে বিপর্যয় ঘটেছে। কৃষকেরা প্রকৃত দাম পাচ্ছেন না। ক্রেতার সংখ্যা কম হওয়ায় কৃষকেরা কম দামেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
শাহজাদপুর উপজেলার সড়াতৈল গ্রামের প্রান্তিক চাষি আনোয়ার হোসেন ও তালগাছী গ্রামের আবদুল মান্নান বলেন, ‘এবারে ১১ বিঘা জমিতে সরিষা বপন করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। বোরো ধানের খরচ পুষিয়ে নিতে প্রতিবছর এই আবাদ করে থাকি। এই আবাদটি কৃষকদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। তবে টানা অবরোধ আর হরতাল শুরু হওয়ায় আমরা প্রকৃত দামে সরিষা বিক্রি করতে পারছি না। বাইরের বড় বড় মহাজনেরা এখনো এলাকায় সরিষা কিনতে আসেননি। গত বছর ভেজা সরিষাই নিম্নে দেড় হাজার টাকা মণ দরে বিক্রয় করেছিলাম। এবার প্রতি মণ ৯০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
কৃষক ও কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া আর কৃষি উপকরণের সরবরাহ ঠিক থাকায় এবার জেলার নয়টি উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। এর মধ্যে শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলায় সরিষার আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। জেলায় ৫২ হাজার ৬৫ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এবার মোট ৫৭ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। প্রতি বিঘায় পাঁচ থেকে ছয় মণ সরিষার ফলন পাওয়া যাচ্ছে। তবে ক্রেতার সংখ্যা কম থাকায় কৃষকেরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না।
এ বছর বারি-৯, ১৪ ও ১৫, এসএস-৭৫, বিনা-৩, ৪, ১৪ ও ১৫, টরি-৭, উফশী ও দেশীয় মাঘী সরিষার আবাদ হয়েছে। কৃষকেরা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী দেশীয় জাতের ওপর নির্ভরশীল না থেকে উচ্চফলনশীল জাত ব্যবহার করায় এবং অন্যান্য উপকরণ সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করায় উৎপাদন ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশির ভাগ জমি থেকে সরিষা তোলা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো জমির সরিষা কৃষকের ঘরে আসবে।
শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছী হাটের সরিষার খুচরা ক্রেতাদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম ও গিয়াস উদ্দীন বলেন, গত বছর সরিষা মজুত করে লাভ হয়নি। এ কারণে জোরালোভাবে কেনা হচ্ছে না। অবরোধ ও হরতালের কারণে অনান্য জেলা থেকে এখন পর্যন্ত বড় বড় মহাজনেরা আসছেন না। আবার বড় বড় কোম্পানির মালিকেরাও সরিষা কেনা শুরু করেননি। যে কারণে বাজার মন্দা যাচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের কৃষি বিভাগের উপপরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, লক্ষ্যমাত্রার বেশি সরিষার আবাদ হয়েছে। এবার রোগবালাই দেখা যায়নি। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখায় এবার ভালো ফলন হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে মালামাল পরিবহন আর যোগাযোগ সঠিকভাবে করতে না পারায় কৃষকেরা প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন