পরে প্রথম আলোর সম্মেলনকক্ষে জ্যেষ্ঠ কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ইউরোপের এই চার শীর্ষ কূটনীতিক। মতবিনিময়ের শুরুতেই পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে প্রথম আলোর পরিচিতি ও কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। এরপর পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ সময় ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এস্ট্রাপ পিটারসন ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দ্রা বার্গ ফন লিন্ড বলেন, পাশ্চাত্যসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে সংবাদপত্র এখন একধরনের ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। পত্রিকার ছাপা সংস্করণের সঙ্গে অনলাইনের একধরনের প্রতিযোগিতা চলছে। পত্রিকার প্রচারসংখ্যা কমছে। সেই সঙ্গে কমছে ব্যবসাও। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই চ্যালেঞ্জ কতটা আছে? আর এই চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে, সেটাও তাঁরা জানতে চান।

default-image

এ সময় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবসহ নানা কারণে ছাপা পত্রিকার প্রচারসংখ্যা এবং আয় দুটোই কমেছে। আবার অন্যদিকে অনলাইনের পাঠক ও আয় বাড়ছে। সে ক্ষেত্রে অনলাইনের ভবিষ্যৎ ভালো দেখে প্রথম আলো। তবে ছাপা পত্রিকার সংস্করণের গুরুত্ব থেকে যাবে। এ জন্য প্রথম আলো পত্রিকার ছাপা সংস্করণের গুণগত মান ক্রমেই ভালো করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

ইউরোপের কূটনীতিকেরা এরপর মন্তব্য করেন মিথ্যা সংবাদ ও ভুল তথ্য ইদানীং গণমাধ্যমের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতিটা কেমন জানতে চাইলে তাঁদের জানানো হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা মাধ্যমে প্রচারিত এ ধরনের ভুল তথ্য মূলধারার গণমাধ্যমের জন্য কখনো কখনো অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কিন্তু সুসাংবাদিকতা ও পেশাদারত্বের অবস্থানে থেকে প্রথম আলো এখন পর্যন্ত এ ধরনের প্রলোভন থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পেরেছে।

মতবিনিময়ের সময় প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক, ফিচার সম্পাদক সুমনা শারমীনসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন