রাজধানীর গুলশান-বারিধারার কূটনৈতিক মিশনগুলোর আশপাশে মানববন্ধন-সমাবেশসহ নানা ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া সম্প্রতি গুলশানে মার্কিন দূতাবাসের এক কর্মকর্তার গাড়িতে ককটেল হামলার ঘটনায় দেশটি উদ্বেগ জানিয়েছে।
গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিক্যাট এ উদ্বেগের কথা জানান। সকালে তিনি শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে তাঁর দপ্তরে দেখা করেন। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী এ আলোচনার সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মার্কিন দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সহিংসতার ব্যাপারে মার্কিন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন মার্শা বার্নিক্যাট। তিনি চলমান সহিংসতাকে ‘নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক’ ঘটনা হিসেবে অভিহিত করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড যৌক্তিক নয় বলে মন্তব্য করেন।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানান, বেশ কয়েকজন সাংসদ সম্প্রতি গুলশান-বারিধারা এলাকা থেকে রাজনৈতিক দলের কার্যালয় সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু বর্তমানে যে পরিস্থিতি রয়েছে, তাতে বিষয়টি নিয়ে এগিয়ে যাওয়া জটিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দ্বিপক্ষীয় অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তিটি সইয়ের জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্কিন সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আশরাফুজ্জামান খানকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আলোচনায় তোলেন।
দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত বার্ষিক সংলাপ, অংশীদারত্ব সংলাপ, নিরাপত্তা সংলাপ, সামরিক সংলাপ এবং টিকফা কাউন্সিল সভার মতো আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বর্তমানে একটি শক্ত কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে বলে শাহরিয়ার আলম মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বাধিক অবদানকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্প খাত, অবকাঠামো, সেবা খাত এবং উচ্চতর প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
আলোচনার সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিক্যাট বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্যের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরও জোরদার ও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন