যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রীতির মধ্যে থেকেই মতপার্থক্য দূর করাটা নিশ্চিত করতে সহিংসতা বন্ধে প্রত্যেকেরই দায়িত্ব রয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিক্যাট আজ মঙ্গলবার সহিংসতা বন্ধে প্রত্যেককে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান। তিনি এদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকের পর মার্শা বার্নিক্যাট সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশের বিদ্যমান গভীর ও সম্প্রসারিত সম্পর্ক কীভাবে আরও জোরদার করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে এ মুহূর্তে যে মাত্রায় সহিংসতা চলছে তা যে ‘নিঃসন্দেহে বিয়োগান্ত ঘটনা’ তা নিয়েও আমাদের আলোচনা হয়েছে। আর সহিংসতা বন্ধে প্রত্যেকেরই দায়িত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্রের দ্বারা আশীর্বাদপুষ্ট। আর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মতপার্থক্য দূর করার পরিসর রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আবারও সহিংসতা বন্ধে প্রত্যেককে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানাই। যাতে করে গণতান্ত্রিক পরিসরের দিকে অগ্রসর হওয়া যায়।
এদিকে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গুলশান-বারিধারার কূটনৈতিক মিশনগুলোর আশপাশে মানববন্ধন-সমাবেশসহ নানা ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ ছাড়া সম্প্রতি গুলশানে মার্কিন দূতাবাসের এক কর্মকর্তার গাড়িতে ককটেল হামলার ঘটনায় তিনি তাঁর দেশের উদ্বেগের কথা জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক ও সহনশীল চরিত্রের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, চরিত্রের এই দিকগুলো বাংলাদেশের মানুষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ১৯৭১ সালে নিউইয়র্কে দায়িত্ব পালনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার প্রসঙ্গ টানেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ এইচ মাহমুদ আলী মার্শা বার্নিক্যাটকে বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক গত ৪৩ বছরে যথেষ্ট পরিণত হয়েছে এবং ২০০৯ সাল থেকে দুই দেশের সমন্বিত চেষ্টার কারণে নতুন অনেক সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, দুদেশের সম্পর্ক অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে গভীর ও ব্যাপক। তিনি আর্থসামাজিক উন্নয়ন, সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের কারণে ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি সহিংস জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকারেরও প্রশংসা করেন। তিনি জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানান এবং তাঁর দায়িত্বকালে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া তিনি তৈরি পোশাকশিল্পের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় সহায়তার নিশ্চয়তা দেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন