হরতাল-অবরোধের নামে সহিংস ও প্রাণঘাতী কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠান এবং দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেছেন আদালত।
বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দুটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল রোববার কয়েকটি বিষয়ে রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।
চলমান অবরোধ-হরতালে নাশকতার চিত্র তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ী শাহীনুর রহমান একটি রিট আবেদন করেন। মাধ্যমিক পরীক্ষার বিষয়ে জনস্বার্থে কেরানীগঞ্জের ইস্পাহানি উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির শফিউল আজম খান অপর রিট আবেদনটি করেন। একটি রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, পররাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাবের মহাপরিচালক, বিজিবির মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিএনপি চেয়ারপারসনসহ ১৬০ জন এবং অপরটিতে এই ব্যক্তিরাসহ ১৬২ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
দুপুর ১২টার দিকে শুনানিতে অংশ নিয়ে রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু বলেন, ৬ জানুয়ারি থেকে অবরোধ চলছে। অবরোধ ডাকার অধিকার থাকতে পারে। কিন্তু জোর করা যাবে না, কারও ওপর পেট্রলবোমা মারা যায় না, এটি অন্যায়।
আদালত বলেন, হরতাল রাজনৈতিক অধিকার। কাউকে বাধ্য করা যাবে না। তবে জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন ও সহিংসতা সৃষ্টি করা যায় না। সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধান মানুষের জীবনের স্বাধীনতা ও নির্বিঘ্নে চলাফেরার নিশ্চয়তা দিয়েছে।
এ পর্যায়ে আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, হরতালের নামে সহিংসতা হচ্ছে। এটি সমর্থনযোগ্য নয়। আদালত বলেন, হরতাল পালনে বাধ্য করা যাবে না। গাড়ি ভেঙে দেবে, এটি সংবিধান অনুমোদন দেয় না।
আইনজীবী এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, ‘জীবনের অধিকার ও চলাফেরার স্বাধীনতা সংবিধান আমাদের দিয়েছে। এটা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।’
আদালত বলেন, পুড়ে গেছে কতজন। জবাবে আবদুল মতিন খসরু বলেন, ৮২ জন। ১৩০ জনের মতো আহত হয়েছে।
মাধ্যমিক পরীক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: বেলা পৌনে একটার দিকে আরেকটি আবেদনের পক্ষে আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু বলেন, মাধ্যমিক পরীক্ষা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এরা জাতির ভবিষ্যৎ। জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা হচ্ছে।
এ পর্যায়ে আদালত প্রশ্ন করেন, মেধাশূন্য করে দেবে? মতিন খসরু বলেন, সাত দিনের মধ্যে পাঁচ দিনই ক্লাসে যেতে পারছে না। এরপর আদালত আদেশ দেন। আবদুল মতিন খসরুকে সহায়তা করেন আইনজীবী সানজিদা খানম।
রুলে শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ক্ষেত্রে ক্ষতিকর কার্যক্রম কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন