বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শামসুদ্দিন চৌধুরী বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশনের চেয়ারম্যান। তিনিসহ আদিবাসী ও সংখ্যালঘুবিষয়ক ককাসের আহ্বায়ক সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা, গণকমিশনের সদস্যসচিব আইনজীবী তুরিন আফরোজ, সমন্বয়কারী কাজী মুকুল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক মাহফুজুর রহমান, প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও লেখক শওকত বাঙালি ভুক্তভোগীদের বক্তব্য শোনেন।

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘তদন্ত ও গণশুনানিতে ৫৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, প্রথম দিকে প্রশাসন ও পুলিশের গাফিলতি ছিল। ঘটনা প্রতিরোধে প্রথম দিকে রাজনীতিবিদদের অনুপস্থিতি ছিল।’ তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পরপর চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অঘটন ঘটেছে। অনেক স্থানে স্থানীয়ভাবে প্রতিহত করার চেষ্টা হয়েছে। না হলে ঘটনা আরও বড় হতো। সারা দেশে এভাবে প্রতিহত হলে সাম্প্রদায়িক আক্রমণের মাত্রা কমে যাবে। যাঁরা সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাঁরা কিছুটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যাঁরা হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের পক্ষ থেকে আপস করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক চেতনা দুর্বল হয়েছে। রাজনীতি দিয়ে মৌলবাদী শক্তিকে পরাস্ত করতে হবে, শুধু পুলিশ ও প্রশাসন দিয়ে এটা সম্ভব নয়।

তুরিন আফরোজ বলেন, গণশুনানিতে যাঁরা বক্তব্য দিয়েছেন, তাঁদের কথায় মনে হয়েছে এখানে (চট্টগ্রামে) সাম্প্রদায়িক আক্রমণ হয়েছে খুবই সুপরিকল্পিতভাবে এবং সংঘবদ্ধভাবে। পুলিশ প্রশাসনের শিথিলতার কথা এসেছে।

গণশুনানিতে অংশ নিয়ে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা-শাহমীরপুর সনাতন পাড়া দুর্গাপূজা কমিটির সভাপতি সজল দাশ জানান, কুমিল্লায় কথিত কোরআন অবমাননার ঘটনার পর অষ্টমীর রাতে তাঁদের পূজামণ্ডপে হামলা হয়। এ ঘটনায় তিনি মামলা দায়ের করেন। এরপর প্রাণনাশের আশঙ্কায় সজল স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পালিয়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে এসেছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি আশীষ ভট্টাচার্য ও সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন নগরের জে এম সেন হল পূজামণ্ডপে হামলার বিস্তারিত বিবরণ দেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন