সহিংস হরতাল-অবরোধের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু, স্বাভাবিক ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় একটি রিট আবেদন জমা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারসহ সব দলকে বিবাদী করে রিটটি করা হচ্ছে। রিটটি করছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ।
বিষয়টি সমন্বয় করছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজনীতিকেরা রাজনৈতিক কর্মসূচি দেবেন, সেটাই স্বাভাবিক। তবে রাজনৈতিক কর্মসূচির আড়ালে সহিংসতা ঘটছে। কেউ সেটির দায়দায়িত্বও স্বীকার করছে না। আমরা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের পক্ষে হরতাল-অবরোধের বিরুদ্ধে একটি দিকনির্দেশনা চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘রিট আবেদনে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ সই করেছেন। এফবিসিসিআই দেশের সব ব্যবসায়ীর প্রতিনিধিত্ব করে। তাই বলা যায়, দেশের সব ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে আবেদনটি করা হয়েছে।’
গত বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের পক্ষে সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি জমা দেন আইনজীবী ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম। জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাল (রোববার) আবেদনটি হাইকোর্টে শুনানির জন্য দাখিল করা হবে।
চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের দাবিতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিজিএমইএ ভবনের সামনে প্রতীকী অনশন করেন পোশাক ও বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীরা। ওই কর্মসূচি থেকে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যেতে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনকে আহ্বায়ক করে কমিটি করা হয়। এতে ১৫টি ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতাকে সদস্য রাখা হয়। এর আগে ১১ ফেব্রুয়ারি বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ জরুরি সভায় বসে হরতাল-অবরোধ বন্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ায় সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিষয়ে বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অর্থনীতির স্বার্থেই সব রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা চাই, অর্থনীতিকে জিম্মি করে কেউ যাতে রাজনীতি করতে না পারে।’ তিনি জানান, এফবিসিসিআইসহ ৪১ সংগঠন যৌথভাবে আবেদনটি করেছে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের অবরোধ-হরতালে সংঘটিত নাশকতার চিত্র তুলে ধরে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে গত মাসে একটি রিট করেন কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ী মো. শাহীনুর ইসলাম। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ কয়েকটি বিষয়ে রুল ও অন্তর্বর্তী আদেশ দেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন