default-image

অনেক সন্ত্রাসীকে লালনকারী ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইদুর রহমান ওরফে সহিদ কমিশনারকে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে চারটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র‌্যাব জানায়, এ সময় সহিদ কমিশনারের বাড়ি থেকে তিনটি ম্যাগাজিন, পিস্তলের ১২টি ও রিভলবারের ৪০টি গুলি উদ্ধার করা হয়। ওই চারটি অস্ত্রের মধ্যে কেবল রিভলবারটির বৈধ কাগজপত্র পাওয়া গেছে, অন্য তিনটি অস্ত্র অবৈধ। এর আগে গত ১ জানুয়ারি গভীর রাতে তাঁর বাড়ি থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, একটি পিস্তল, একটি শটগান, পিস্তলের ১২টি ও শটগানের ২৩টি গুলিসহ তাঁর সহযোগী হাফিজুরকে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব।
পুরান ঢাকার সূত্রগুলো জানায়, ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডাকাত শহীদ, কালা জাহাঙ্গীরসহ অনেক সন্ত্রাসীর বেড়ে ওঠা সাইদুর ওরফে সহিদ কমিশনারের হাত ধরে। তাঁর বিরুদ্ধে সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া ও শ্যামপুর থানায় পাঁচটি হত্যাসহ অন্তত সাতটি মামলা এবং সূত্রাপুর ও শ্যামপুর থানায় বেশ কিছু সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। বিএনপির নেতা আইনজীবী হাবিবুর রহমান মণ্ডল হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে তাঁর ফাঁসির আদেশ হয়। ওই মামলার বিচার চলাকালে সহিদ কমিশনার ১০ বছর কারাগারে ছিলেন। পরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে খালাস পান। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন লুকিয়ে ছিলেন।
সূত্রগুলো জানায়, সাইদুর রহমান একসময় ঢাকা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার ছিলেন। ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৬ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। আওয়ামী লীগ ওই আসনটি ছেড়ে দেয় জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশীদকে। সাইদুর দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এনে ভোট গ্রহণের দিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় সাইদুর উল্লেখ করেন, তিনি একটি মামলায় খালাস পেয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে করা দুটি মামলা স্থগিত আছে।
র‌্যাব-১০-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বী বলেন, গতকাল ভোররাতে গেন্ডারিয়ার সতীশ সরকার লেনে সাইদুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, পিস্তলের ১২টি গুলি, একটি রিভলবার ও রিভলবারের ৪০টি গুলি উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মধ্যে রিভলবারটির বৈধ কাগজপত্র পাওয়া গেছে।
র‌্যাব জানায়, সাইদুর রহমানের বাড়িতে ছয়-সাতজন সন্ত্রাসী অবস্থান করছে—এ তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১০ অভিযানটি চালায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই সন্ত্রাসীরা রশি বেয়ে পাঁচতলা বাড়ির তৃতীয় তলার পেছনের বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়। এক গাছি নাইলনের রশিও উদ্ধার করা হয়েছে।
এই অভিযান নিয়ে দুপুরে র‌্যাব-১০-এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন