বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে ডুজার দুই নেতা বলেন, যে প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে রোজিনা ইসলামকে হয়রানি করা হয়েছে, এর মধ্য দিয়ে প্রজাতন্ত্রের ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শপথ ভঙ্গ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করছে। একই সঙ্গে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছে।

ডুজার নেতারা আরও বলেন, ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের’ অধীনে একটি মামলা দিয়ে রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ১৯২৩ সালে প্রণীত এই আইন ব্রিটিশ শাসনকে পাকাপোক্ত করার কাজে ব্যবহার করা হতো। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে এ ধরনের ঔপনিবেশিক আইন ব্যবহার করে সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনা স্বাধীন গণমাধ্যমের মূলে কুঠারাঘাত। এ ধরনের আইন ২০০৯ সালে প্রণীত তথ্য অধিকার আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের প্রয়োগ প্রকারান্তরে দেশে দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে বলে তাঁরা মনে করছেন।

default-image

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি ও হেনস্তাকারীদের বিচার নিশ্চিত করে সরকার সংবিধানে প্রতিশ্রুত গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সমুন্নত করতে সচেষ্ট হবে বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি আশা করে।

প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে গত সোমবার সচিবালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। পরে রাতে তাঁকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। মধ্যরাতে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রোজিনা ইসলামকে আদালতে নেওয়া হয়। আদালত তাঁর বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আজ রোজিনার মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে৷

রোজিনা ইসলাম সম্প্রতি স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন করেছেন। এ কারণে তিনি কারও কারও আক্রোশের শিকার হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁকে হেনস্তা ও হয়রানির প্রতিবাদে সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে যাচ্ছেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন বিবৃতি দিয়ে তাঁর মুক্তি দাবি করেছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন