বিজ্ঞাপন

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. রইছ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) থেকে আমরা এখনো মতামত পাইনি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে এই বিষয়ে মতামত পাব বলে আশা করছি। আমরা নিয়মিত সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করছি।’

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হেফাজতে ইসলামের জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা সাজিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মুফতি মোবারকুল্লাহসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে ১ মে সন্ধ্যায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এজাহার দায়ের করেন সাংসদ উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। ওই দিন সন্ধ্যায় সাংসদের পক্ষে তাঁর আইনজীবী ও শহর আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক আবদুল জব্বার এজাহারটি সদর মডেল থানায় জমা দেন। এজাহারে অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারে বৈধ সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতা চালানোর অভিযোগ আনা হয়। গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহিংসতার ঘটনার পর হেফাজতের এই নেতাদের নাম উল্লেখ করে সাংসদ প্রথম কোনো এজাহার দায়ের করেন।

সাংসদ উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর ওই এজাহারে বলা হয়, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতা চালান হেফাজতে ইসলামের নেতা–কর্মীরা। তাঁরা সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্র এবং গানপাউডারসহ বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করেন।

শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক থেকে ইংরেজিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে মোকতাদির চৌধুরী বলেন, ‘আমি চাই আমার এজাহারটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় আইসিটি আইনে নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হোক অথবা প্রত্যাখ্যান করা হোক। যাতে আমি আদালতে মামলা করতে পারি। এটা ২৪ তারিখের মধ্যে (২৪ মে সোমবার) করুন। এটা আমার আলটিমেটাম।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাংসদের এজাহারে উল্লেখিত ফেসবুকের লিংকগুলো থেকে রাষ্ট্রবিরোধী ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরির পোস্ট দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটি পরীক্ষা করে মতামত দেওয়ার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে চিঠি দেয় সদর থানা–পুলিশ। কিন্তু তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি।

গত বুধবার মধ্যরাতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন ফেসবুকে পৃথক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে সাংসদের এজাহারটি আগামী ১ জুনের মধ্যে মামলা হিসেবে নথিভুক্তির জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন।

রবিউল হোসেন ও শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ৩০ মে পর্যন্ত লকডাউন। তাই আগামী ১ জুন সাংসদের আবেদন মামলাটি নথিভুক্ত করতে এবং জেলা হেফাজতের সভাপতি সাজিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মুফতি মোবারকুল্লাহকে গ্রেপ্তারের দাবিতে রেলওয়ে স্টেশনে মানববন্ধন হবে। দাবি পূরণ হওয়ার আগপর্যন্ত ২ জুন থেকে লাগাতার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি মতামতের জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। আমরা এখনো সিআইডির মতামত পায়নি। অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রে মতামত আসতে দু-তিন সপ্তাহ বা কমবেশি সময় লাগে বলে জানান তিনি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সিআইডি বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর, ঢাকার বায়তুল মোকাররম ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার ঘটনার প্রতিবাদে ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতা চালান হেফাজতে ইসলামের নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা। এসব ঘটনায় জেলায় ১৫ জন নিহত হন। এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় ৫৬টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৪৯৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন