কক্সবাজারের সাংসদ আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে বিদেশে অবৈধ উপায়ে অর্থ পাচারের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান দল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় দুদকে তলব করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত না হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ রয়েছে ওই চিঠিতে।   

পাশাপাশি অন্য ছয় সাবেক মন্ত্রী-সাংসদের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে বিপুল সম্পদের তথ্য পেয়েছে সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান দল। এই সাত সাবেক মন্ত্রী-সাংসদের নামে আগামী সপ্তাহেই সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ জারি করবে দুদক কর্তৃপক্ষ।

দুদকের কমিশনার (তদন্ত) শাহাব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন পেলেই কমিশনের প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী জমা দিতে নোটিশ জারি করা হতে পারে।

দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে এই সাত সাবেক মন্ত্রী-সাংসদের হলফনামা ও আয়কর বিবরণী জোগাড় করেছেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা। এ ছাড়া, পটুয়াখালীতে সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমানের বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য উপপরিচালক খায়রুল হুদা অবস্থান করছেন। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে জানতে রাজধানীর স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাতক্ষীরায় গ্রামের ঠিকানায় নিজস্ব সূত্র থেকে বেনামে সম্পদের তথ্য পেয়েছেন উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম। সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সপক্ষে তাঁর নির্ভরশীলদের বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।

রাজশাহীর সাংসদ এনামুল হকের অনুসন্ধান কর্মকর্তার পরিবর্তন করায় হলফনামা সংগ্রহ ছাড়া অগ্রগতি নেই। উপপরিচালক সৈয়দ তাহসিনুল হককে পরিবর্তন করে উপপরিচালক যতন কুমার রায়কে সম্প্রতি এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাংসদ আসলামুল হকের বিরুদ্ধে জমি দখলের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছেন উপপরিচালক শেখ ফায়েজ আলম।

কক্সবাজারের সাংসদ বদির বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়ায় বদি ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের বিভিন্ন ব্যাংকে নানা হিসাবের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে জানতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছেন দুদকের এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উপপরিচালক আহসান আলী। পরিবারের চার সদস্য হচ্ছেন—বদির প্রথম স্ত্রী শাহিনা আক্তার, দ্বিতীয় স্ত্রী খাদেজা আক্তার সাকেরুন নেছা সাকি, মেয়ে সামিয়া রহমান সামি ও ছেলে আবদুল্লাহ আরমান শাওন।

গত ২২ জানুয়ারি গণমাধ্যমে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই সাত সাংসদের বিপুল সম্পদের অনুসন্ধানে কর্মকর্তা নিয়োগ দেয় দুদক কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও বাগেরহাট-৪ আসনের বর্তমান সাংসদ ডা. মোজাম্মেল হোসেনের বিরুদ্ধেও সম্পদের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করছে দুদক। এ ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো কর্মকর্তা নিয়োগ না দিলেও বাগেরহাটে প্রাথমিক তথ্য নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন