বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

২০১৬ সালের বিজয় দিবসটা বাংলাদেশের সাইক্লিস্টদের জন্য ছিল অনন্য একটা দিন। এক সারিতে ১ হাজার ১৮৬ জন মানুষ একসঙ্গে সাইকেল চালিয়েছিলেন সেদিন। একটি সাইকেল থেকে আরেকটি সাইকেলের নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে, লেন ঠিক রেখে, ধীরগতিতে সাইকেল চালিয়ে গিনেস রেকর্ডে নাম লিখিয়েছিলেন তাঁরা। চলন্ত সাইকেলে দীর্ঘতম একক সারির রেকর্ডটি দীর্ঘদিন বিডিসাইক্লিস্টসের ঘরেই ছিল।

এবার নতুন রেকর্ড গড়ার পালা। চারজনে মিলে রিলে করে টানা ৪৮ ঘণ্টায় চালাতে হবে কমপক্ষে দেড় হাজার কিলোমিটার পথ। রোদ, ঝড়বৃষ্টি, শীত—যা–ই থাক; ওই পথ পাড়ি দিতে হবে দুই দিনের মধ্যেই। সাইকেলে করে শুধু প্যাডেল ঘোরালেই চলবে না। রেকর্ড করতে হলে মানতে হবে গিনেস কর্তৃপক্ষের একগাদা শর্ত। যে রাস্তায় সাইকেল চালাবেন, সেটার সার্ভে রিপোর্ট বা জরিপ প্রতিবেদন লাগবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। ৪৮ ঘণ্টার ভিডিও ফুটেজ থাকতে হবে। স্টপওয়াচ থাকতে হবে দুটি। প্রতি চার ঘণ্টা অন্তর দুজন করে সাক্ষী বা বিচারক থাকতে হবে, যাঁরা পর্যবেক্ষণের পর নির্দিষ্ট ফরমে সই করে দেবেন। সেই ফরমও জমা দিতে হবে গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে।

default-image

এত এত নিয়মের চক্করে রেকর্ড করবেন কী করে, জানতে চাইলে টিমবিডিসির দ্রাবিড় আলম বললেন, ৮ ডিসেম্বর রাত আটটা থেকে পূর্বাচলের জয়নুল আবেদিন চত্বর থেকে সাইকেল চালানো শুরু হবে। শুরুটা তাঁকে দিয়েই হবে। যেহেতু রিলে রেস, তাই একজন একজন করে চালাবেন তাঁরা। চৌকোণাকৃতির ১ দশমিক ৭ কিলোমিটার একটা জায়গায় চক্করের পর চক্কর দেবেন। শুরুতে দ্রাবিড় ৩০ মিনিট চালাবেন। তাঁর সঙ্গে থাকবে একটি ব্যাটন। পরে আসবেন তানভীর আহমেদ। দ্রাবিড় তাঁর ব্যাটনটি তানভীরের হাতে তুলে দেবেন। তানভীরও ৩০ মিনিট চক্কর দেবেন। পরের ৩০ মিনিট চালাবেন রাকিবুল ইসলাম এবং সব শেষে চালাবেন মো. আলাউদ্দীন। চারজনই বিডিসাইক্লিস্টসের (বিডিসি) উইং টিমবিডিসির সদস্য।

default-image

‘মূল রাইড শুরু হবে এর পর থেকেই,’ বললেন দ্রাবিড়। প্রত্যেকে এক ঘণ্টা করে চালাবেন তখন। প্রথমজন এক ঘণ্টা চালানোর পর দ্বিতীয়জন এসে হাল ধরবেন। প্রথমজন বিশ্রামে যাবেন। এভাবে একে একে চলতে থাকবে। দুই দিন ধরে টানা সাইকেল চালানোর পুরো ধকলই যাবে পূর্বাচলের সেই রাস্তার ওপর দিয়ে। ১ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটায় ৯৪১টি চক্কর দিতে হবে। বিশ্ব রেকর্ড গড়তে চার সাইক্লিস্ট মিলে ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সাইকেল চালাবেন।

গতি কেমন থাকবে জানতে চাইলে তানভীর বললেন, দুই দিনে ওই পরিমাণ পথ পাড়ি দিতে হলে গড়ে ৩৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে হবে তাঁদের। গড়ে ৩১ কিলোমিটার গতিতে চালালেও রেকর্ডটা হবে। কিন্তু তাঁদের লক্ষ্য ৩৫।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, দেশে এত এত রাস্তা থাকতে পূর্বাচলের ওইটুকুন রাস্তায় পাক খাওয়ার মানে কী? এর উত্তরও মিলল চার সাইক্লিস্টের মুখেই। জানালেন, যেখানেই তাঁরা চালান না কেন, পুরো রাস্তার মাপজোখ দিতে হবে গিনেস কর্তৃপক্ষকে। ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার রাস্তার সার্ভে করানো তো সম্ভব নয়! আর নিরাপত্তার বিষয়ও আছে। পূর্বাচলের ওইটুকুন রাস্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তাঁদের রীতিমতো গলদঘর্ম অবস্থা। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া, স্থানীয় লোকজনকে বোঝানো। দিনের পর দিন এসব করতে হয়েছে তাঁদের। টিমবিডিসির সদস্যরা এ কাজে বড় রকমের সহায়তা পেয়েছেন তাঁদের পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ডাবরের কাছ থেকে। টিমবিডিসির এই কর্মযজ্ঞে সহযোগিতায় আছে প্রথম আলো ডটকম।

default-image

দিনে-রাতে মিলিয়ে দুই দিনে ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সাইকেল চালানো তো চাট্টিখানি কথা নয়। এর জন্য চাই দীর্ঘ প্রস্তুতি। আপনাদের প্রস্তুতিটা কেমন ছিল? একগাল হেসে রাকিব বললেন, গত তিন মাস কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তাঁরা। তবে মূল প্রস্তুতিটা তাঁদের হয়ে গেছে আরও আগে করোনায় ঘরবন্দী থাকা অবস্থায়। তখন করার মতো তেমন কিছু ছিল না। ঘরে বসে ট্রেনারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাইকেল চালিয়েছেন।

default-image

৮ থেকে ১০ ডিসেম্বর সাইকেল চালানোর পর সব দলিল-দস্তাবেজ জমা দিতে তিন-চার দিন লেগে যাবে। গিনেস কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করতে কম করে হলেও সাত দিন সময় নেবে।

শেষ বিকেলে চন্দ্রিমা উদ্যানে চার সাইক্লিস্টের সঙ্গে গল্প হচ্ছিল। বিকেল গড়িয়ে একসময় সন্ধ্যা নামল। আমরা ওঠার তোড়জোড় করছি। শেষ প্রশ্ন ছিল, কেমন লাগছে? অনুভূতি কী? বড় একটা কাজে নামছেন। দ্রাবিড় বললেন, বড় শঙ্কা ঝড়বৃষ্টি নিয়ে, ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ নিয়ে। ওই সময় যদি ঝড়টা আঘাত হানে, তাহলে তাঁদের বিড়ম্বনা বাড়বে। চ্যালেঞ্জটা আরও কঠিন হয়ে যাবে তখন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন