default-image

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল আজ বৃহস্পতিবার। তবে র‍্যাবের পক্ষ থেকে আজ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। পরে আদালত আগামী ২১ এপ্রিল এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য দিন ধার্য করেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী এই আদেশ দেন।

আদালতের নথিপত্রের তথ্য বলছে, এ নিয়ে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আদালত ৭৯ বার সময় দিলেন। আজকের আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজকের দিন (১১ মার্চ) ধার্য করেছিলেন।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নৃশংসভাবে খুন হন। ফ্ল্যাটে তাঁদের ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়।

সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ছিল তাঁদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ।

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে এসে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হবে। সেই ৪৮ ঘণ্টা এখন নয় বছর পেরিয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। প্রথমে এই মামলা তদন্ত করছিল শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। এরপর আদালত র‍্যাবকে মামলা তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই থেকে র‍্যাব মামলাটি তদন্ত করছে।

দীর্ঘ ৯ বছরেও সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ না হওয়ায় পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও সাংবাদিক নেতারা হতাশ-ক্ষুব্ধ-ব্যথিত।

সাগর-রুনির পরিবার ও স্বজনেরা বলছেন, ৯ বছর ধরে এই মামলায় কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। এ অবস্থায় তাঁরা বিচারের আশা দেখছেন না।

সম্প্রতি সাগরের মা সালেহা মনির (৬৯) প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার আরজি, আদালত যেন আর সময় না দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য র‍্যাবকে সময় বেঁধে দেন। প্রধানমন্ত্রী যেন মুজিব বর্ষে এই নৃশংস হত্যার বিচার নিশ্চিত করেন।’

আর রুনির মা নুরুন নাহার মির্জা (৬২) প্রথম আলোকে বলেন, ‘আশায় আছি, বিচার পাব। কিন্তু পাচ্ছি না।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন