রাজধানীর পল্টনে কালভার্ট রোডে ঢাকা ওয়াসার খোলা ম্যানহোলে পড়ে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার ঘটনায় ঢাকা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা. আতিকুর রহমানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ আদেশ দেন।

অপর ছয়জন হলেন—ওয়াসার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাঈদ শাহরিয়ার হোসাইন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন (ড্রেনেজ, ওএন্ডএম, বিভাগ-১), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের (অঞ্চল-২, খিলগাঁও) কার্য সহকারী মো. রোস্তম আলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পুর) মো. মেজবা উদ্দিন রাসেল ও সহকারী প্রকৌশলী (পুর) সাইফুল ইসলাম এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রুবি এন্টার প্রাইজের মোহাম্মদ হোসেন। পল্টন থানার ওসির প্রতি এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওই ঘটনায় করা প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) ‘প্রকৃত অপরাধীকে বাঁচানোর প্রক্রিয়া ও মিথ্যা তথ্য বিবরণী প্রস্তুত’ করার জন্য পল্টন থানার পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম ও উপপরিদর্শক (এসআই) মহিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে বলা হয়েছে।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ওয়াসার এমডি ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সিইও আদালতে হাজির হয়েছিলেন। আদালত ওই অঞ্চলের দায়িত্বে কারা ছিলেন তা জানতে চান। এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে তারা দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকা দেন। আদালত সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করতে ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। এটি আগের এফআইআরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তদন্ত হবে আদালত বলেছেন। এ ছাড়া নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা ওয়াসা ও ডিএসসিসি জানাতে বলা হয়েছে। ৯ মে পরবর্তী আদেশর জন্য বিষয়টি আসেব।

‘পল্টনে খোলা ম্যানহোলে পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু’ শিরোনামে ৭ মার্চ প্রথম আলোতে প্রতিবেদন ছাপা হয়। এতে বলা হয়, রাজধানীর পল্টনে কালভার্ট রোডে ঢাকা ওয়াসার খোলা ম্যানহোলে পড়ে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বলা হয়, কয়েক দিন ধরে কালভার্ট রোডের পল্টন টাওয়ারের সামনে ম্যানহোলের প্রায় ৪০ বর্গফুট আয়তনের একটি ঢাকনা খোলা ছিল। কিন্তু এখানে কোনো সতর্কবার্তা বা চারপাশে সংকেত ছিল না। প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে ওই দিন আদালত স্বতঃপ্রণোদিত রুলের পাশাপাশি ব্যাখ্যা জানাতে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) ১৯ মার্চ আদালতে হাজির নির্দেশ দেন।

এর ধারাবাহিকতায় রোববার ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান এবং ডিসিসির প্রধান নির্বাহী খান মো. বেলাল আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে ব্যাখ্যা দাখিল করেন। আদালতে এমডির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শফিক আহমেদ ও মাহবুব শফিক, ডিএসসিসি-এর সিইওর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। শুনানি নিয়ে আদালত দুজনকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন