ঢাকার ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাতজন চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল রোববার এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্য চিকিৎসকদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া চিকিৎসকেরা হলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র চক্ষু বিশেষজ্ঞ মো. জানে আলম মৃধা, জুনিয়র শিশুবিশেষজ্ঞ সৈয়দ আহসান তৌহিদ, সহকারী সার্জন রুমানা আক্তার ও জান্নাতুল ফেরদৌস, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. সাখাওয়াত হোসেন, জেরিন জিন্দিয়া হোসেন এবং চিকিৎসক নাজমুন্নাহার। মামলা করার সুপারিশ করা হয়েছে সহকারী সার্জন তানিয়া রহিম ও চিকিৎসক মির্জা আবু সাইমের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। তাঁদের মধ্যে তানিয়া গত বছরের ২০ নভেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত এবং মির্জা আবু সাইম গত বছরের ৩ অক্টোবর থেকে অনুপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বাসুদেব গাঙ্গুলী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. শাহনেওয়াজ গত বুধবার সকাল সোয়া আটটায় ধামরাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান। দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাঁরা ওই হাসপাতালে অবস্থান করেন। সকাল পৌনে ১০টা পর্যন্ত তাঁরা মাত্র তিনজন চিকিৎসককে উপস্থিত পান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনসহ ২৬ জন চিকিৎসক তখনো উপস্থিত হননি। ওই সময়ের মধ্যে নয়টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মুঠোফোনে খোঁজ নিয়েও তাঁরা কোনো চিকিৎসকের উপস্থিতির প্রমাণ পাননি।
পরিদর্শন দলের সদস্যরা গতকাল সকালে নয়জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে তাঁদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সাতজন চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মন্ত্রী দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার করার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সুপারিশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বাসুদেব গাঙ্গুলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অপরাধ বিবেচনায় তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। সুপারিশ অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিলম্বে হলেও উপস্থিত হওয়ার কারণে বাকি চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন