default-image

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানের বক্তব্যের ভিডিও প্রচারের ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় দণ্ডিত ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের জামিন আবেদনের শুনানি মুলতবি (স্ট্যান্ডওভার) রাখা হয়েছে। তিন মাসের জন্য আবেদনের শুনানি মুলতবি করা হয়েছে।
শুনানি নিয়ে আজ বুধবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন।

এর আগে ওই মামলায় ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে মোয়াজ্জেম হোসেনকে ৮ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে মোয়াজ্জেম হাইকোর্টে আপিল করেন। গত বছরের ১৮ আগস্ট হাইকোর্ট আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। এরপর গত অক্টোবরে জামিন চেয়ে আবেদন করেন মোয়াজ্জেম, যা আজ শুনানির জন্য ওঠে।

আদালতে মোয়াজ্জেমের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মুরাদ রেজা ও রেদওয়ান আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রেজাউল করিম। পরে রেদওয়ান আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, মোয়াজ্জেম হোসেনের জামিন চাওয়া হলে শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট জামিন আবেদনের শুনানি তিন মাসের জন্য মুলতবি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

নুসরাতকে ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেন তাঁর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। ১০ এপ্রিল সে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এর ১০ দিন আগে নুসরাত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যায়। থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম সে সময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন।

নুসরাতের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে ওই বছরের ১৫ এপ্রিল মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গত ২৭ মে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। আদালত তা আমলে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেন। এর ২০ দিনের মাথায় ২০১৯ সালের ১৬ জুন মোয়াজ্জেম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। আর নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় এর আগে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন