আপাতদৃষ্টিতে বাংলাদেশ এখন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—এই দুটি শিবিরে বিভক্ত। কিন্তু এর বাইরে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী আছে, যারা কোনো পক্ষ নয়। এরা দলনিরপেক্ষ বা ভাসমান ভোটার। এদের ভোটেই কখনো আওয়ামী লীগ আবার কখনো বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে। এরাই জাতির আশার আলো। গণজাগরণ মঞ্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ হয়েছিল, দলনিরপেক্ষ বা ভাসমান ভোটাররাও সেভাবে সংগঠিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এরাই পারবে দেশকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে ‘পঁয়তাল্লিশে বাংলাদেশ’ শীর্ষক কাজী নূর-উজ্জামান প্রথম স্মারক বক্তৃতায় বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এ কাইয়ুম খান এ কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধে ৭ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার কাজী নূর-উজ্জামানের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কাজী নূর-উজ্জামান ট্রাস্ট এই বক্তৃতার আয়োজন করে।
কাইয়ুম খান বলেন, বাংলাদেশে দুর্নীতির মূল কারণ ব্যয়বহুল নির্বাচন। এ কারণে নির্বাচনী ব্যয় রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে। দেশের জন্য আরেকটি সংকট হলো মাদক। দেখা যাচ্ছে, মাদক ব্যবসার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং তাঁদের দলের ছাত্রসংগঠনগুলো জড়িয়ে আছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নষ্ট হওয়ার কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠিত হচ্ছে বিচারপতি বা সাবেক আমলাদের দিয়ে। এঁরা নাকি ভালো চালাবেন। কিন্তু দেখা গেছে, বিচার বিভাগ ও প্রশাসন দুর্নীতিমুক্ত নয়। এঁরা যদি এতই ভালো হবেন, তাহলে তাঁদের আগের কর্মস্থল কেন দুর্নীতিতে নিমজ্জিত?
জিয়াউর রহমান ও এইচ এম এরশাদের শাসনামলের তুলনা করতে গিয়ে কাইয়ুম বলেন, জিয়া বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালনা করেননি। কিন্তু এরশাদ সেটা করেছিলেন। জিয়ার শাসনামলে ২০ বার বিদ্রোহ হয়েছিল। জিয়া কর্নেল তাহেরসহ অন্তত ১ হাজার সেনাসদস্যকে ফাঁসির দণ্ড দিয়েছিলেন। এঁদের কেউই আসলে বিচার-প্রক্রিয়ায় ফাঁসির কাষ্ঠে যাননি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সমাজকর্মী শিরিন হক বলেন, ইতিহাস বিকৃতি প্রতিরোধ-সংক্রান্ত যে আইনের কথা বলা হচ্ছে, তা হবে জাতির জন্য একটি ভয়াবহ আইন। এই আইন করতে দেওয়া যায় না। কেননা এই আইন হলে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও বীরাঙ্গনাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে।
অনুষ্ঠানে ট্রাস্টের সভাপতি শহীদুল্লাহ খান, কাজী নূর-উজ্জামানের মেয়ে লুবনা মারিয়াম, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে কাজী নূর-উজ্জামানের লেখা বই ও তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত একটি ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করা হয়। এটির উদ্বোধন করেন নূর-উজ্জামানের স্ত্রী সুলতানা জামান।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন