বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অথচ ৫ নভেম্বর ডিআরইউতেই এক সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু মহাজোট জানিয়েছিল, এবার সাম্প্রতিক হামলায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৬১১ জন। ৫ জন নারী ধর্ষণের শিকার এবং ৫ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের চার শতাধিক নারী লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। ৩১টি মন্দির ভস্মীভূত করা, ২২৭টি পূজামণ্ডপ ভাঙচুর, ২৪১টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

‘যখন ঘটনা ঘটেছে, তখন আমরা বলেছি এটা প্রশাসনের ব্যর্থতা না।’
গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, মহাসচিব বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় গত ২৮ অক্টোবর একটি বিবৃতি দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, দেশে সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময় কেউ ধর্ষিত হননি এবং একটি মন্দিরেও অগ্নিসংযোগ কিংবা ধ্বংস করা হয়নি। ধর্মীয় সহিংসতায় এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়জন মারা গেছেন।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন মুসলমান, আর তাঁরা হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন। দুজন হিন্দু মারা যান, তাঁদের মধ্যে একজনের সাধারণ মৃত্যু হয়েছে। অন্যজন ডুবে মারা গেছেন।

এ বিষয়ে আজকের সংবাদ সম্মেলনে গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দুর্গোৎসব চালাকালীন সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের বিষয়ে কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে রাষ্ট্রের মুখপাত্র হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রণালয় কৌশলগত বক্তব্য রেখেছেন। বিভিন্ন সংগঠন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের যৌক্তিক বিরোধিতার বদলে অশালীন–অশোভন বক্তব্যের মাধ্যমে দেশে–বিদেশে পরিকল্পিতভাবে সংবাদ সম্মেলন, ধিক্কার মিছিল আয়োজন করেছে।

হিন্দু মহাজোট আরও বলেছে, যারা বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে সহিংস দেশ হিসেবে উপস্থাপন করছে, তারা হিন্দুধর্মের চেতনাবিরোধী। দেশের অভ্যন্তরীণ কোনো ঘটনা বিশ্বদরবারে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা কোনো সমাধান নয়। বরং নিজের দেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করা মানে নিজেদের বিনাশ ত্বরান্বিত করা।

হিন্দু সম্প্রদায়ের আবেগকে পুঁজি করে দুষ্টচক্র নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থে স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় রাষ্ট্রবিরোধী নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে বলেও দাবি করেন গোবিন্দ চন্দ্র। এ সময় প্রশ্ন করা হলে রাষ্ট্রবিরোধী নীলনকশায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নাম বলেন তিনি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যখন ঘটনা ঘটেছে, তখন আমরা বলেছি এটা প্রশাসনের ব্যর্থতা নয়।’

দেশের সহিংসতার তথ্য উপস্থাপনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও জাতীয় হিন্দু মহাজোটই সাম্প্রদায়িক হামলায় সবচেয়ে বেশি সংঘাতের তথ্য তুলে ধরেছে।

হিন্দু মহাজোটের আজকের অবস্থান স্ববিরোধী কি না, কিংবা পাঁচ নারী ধর্ষণের শিকারসহ অন্যান্য তথ্য প্রত্যাহার করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, ‘আমরা যে কথা বলেছিলাম, তা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই বলেছিলাম। এটাকে নিয়ে রাজনীতি করার জন্য নয়।’

হিন্দু মহাজোটের বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত প্রথম আলোকে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা মন্ত্রী দেবেন। হিন্দু মহাজোট এই ব্যাখ্যা দেওয়ার কে? তিনি বলেন, হিন্দু নারী ধর্ষণের শিকার হওয়ার তথ্যটি হিন্দু মহাজোটই দিয়েছিল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নয়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন