default-image

কাজলকে আগেই লাইলীর কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছিল। লাইলী নিজ প্রকোষ্ঠে সদ্য ভূমিষ্ঠ বাচ্চাটিকে নজরবন্দী করে রেখেছে সারাক্ষণ। বেশি মানুষ দেখলেই চোখ রাঙাচ্ছিল। পাশে তাঁর প্রথম কন্যাসন্তানটিও রয়েছে। ছোট বোনের আবির্ভাবে সে-ও কম খুশি নয়। তবে আদর কমে যাওয়ার আক্ষেপও নিশ্চয় থাকবে।
চিত্রটি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার সাম্বার হরিণ পরিবারের। সাম্বার হরিণ কাজল-লাইলীর পরিবারে ১৯ ডিসেম্বর এসেছে এই নতুন অতিথি। এ নিয়ে হরিণ পরিবারের মতো খুশি চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। কারণ উপমহাদেশে সাম্বার হরিণ বিলুপ্তির পথে।
চিড়িয়াখানার চিকিৎসক শাহদাত হোসেন বলেন, ‘এটা মেয়ে শাবক। আমরা রক্ষণাবেক্ষণ করে যাচ্ছি। তবে এখন মা হরিণটি বেশ উত্তেজিত। বাচ্চা সুরক্ষায় সে খুব ব্যস্ত।’ চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এই পরিবারের এখন সদস্য সংখ্যা দাঁড়াল চারে। এর আগে গত বছরের জুলাইতে লাইলী আরেকটি বাচ্চা প্রসব করেছিল। তবে ওই বাচ্চাটি মারা যায়। তারও আগে ২০১২ সালে প্রথম সন্তান প্রসব করেছিল লাইলী।
প্রাণীবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের হরিণ প্রজাতির মধ্যে সাম্বার এখন বিলুপ্তপ্রায়। একসময় চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে প্রচুর দেখা যেত। এখন তা আর চোখে পড়ে না।
প্রাণীবিদেরা জানান, প্রতিটি সাম্বার হরিণ উচ্চতায় সাড়ে তিন থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত হয়। গড় ওজন ১০০ থেকে ৩৫০ কেজি। চিড়িয়াখানায় বাঁচে সর্বোচ্চ ২৮ বছর। এই প্রজাতির গর্ভধারণকাল আট মাস। দক্ষিণ এশিয়ায় বিচরণকারী এই প্রাণীটি এখন প্রায় বিপন্ন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন