মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর করা আপিলের সারসংক্ষেপ দাখিলে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষকে দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। নিজামীর পক্ষে এ সময় আইনজীবী শিশির মনির উপস্থিত ছিলেন।
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘মতিউর রহমান নিজামীর মামলাটি আদেশের জন্য ছিল। উভয় পক্ষে কোনো সারসংক্ষেপ বা সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হয়নি। বলেছি এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হোক। আপিলের সারসংক্ষেপ দাখিল করার জন্য আদালত আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষকে দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন।’
গত বছরের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। এই রায়ের পর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আপিল করেন নিজামী।
গোলাম আযমের আপিলের পরিসমাপ্তি: মারা যাওয়ায় দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযম ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল অকার্যকর হিসেবে পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেছেন আপিল বিভাগের একই বেঞ্চ।
অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘গোলাম আযমের ব্যাপারে বলেছি, তিনি মারা গেছেন। ফৌজদারি মামলায় যদি কোনো জরিমানা না থাকে, তাহলে আপিলের পরিসমাপ্তি হয়। রাষ্ট্রপক্ষ একটি আপিল করেছিল গোলাম আযমের দণ্ড বৃদ্ধি চেয়ে। যেহেতু মূল আসামি মারা গেছেন, তাই রাষ্ট্রপক্ষের আপিলটি অকার্যকর হয়ে গেছে। এ আদেশ দিয়ে আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছেন।’
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এই রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে ওই বছরের ৫ আগস্ট আপিল করেন তিনি। আর সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে একই বছরের ১২ আগস্ট আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। বিষয়টি কার্যতালিকায় এলে গত বছরের ২২ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ ২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। কিন্তু এর পরদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (প্রিজন সেলে) তিনি মারা যান। এরপর গতকাল আদেশের জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকার ২ নম্বর ক্রমিকে আপিল অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন