রিয়াল মাদ্রিদের স্প্যানিশ ডিফেন্ডার সার্জিও রামোসের এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। ডিফেন্ডার হওয়া সত্ত্বেও ম্যাচের পর ম্যাচ শেষ মুহূর্তে এসে গোল করে দলকে রক্ষা করেন তিনি। শেষ মুহূর্তে রামোসের গোল করার এই ক্ষমতা অনুকরণীয়। বিশেষ করে জীবনের কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটা কাজে লাগাতে পারলে ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হতে বাধ্য। শেষ মুহূর্তে ফিচারটি লিখে রস+আলোকে রক্ষা করেছেন মাহবুব আলম

default-image

১. পরীক্ষার হলে শেষ ১০ মিনিটের জন্য রামোস থিওরি প্রয়োগ করা যেতে পারে। এতে করে যেসব দুর্বল ছাত্রছাত্রী প্রশ্ন পাওয়ার পর সারাক্ষণ ‘কী লিখব কী লিখব’ চিন্তা করেই নীরবে অশ্রুবিসর্জন দিয়েছে, তারাও শেষ মুহূর্তে পরীক্ষায় উত্তর লিখতে পারবে ঘসঘস করে।

২. অফিসে দেরি করে যান? আর রোজ রোজ ঝাড়ি জোটে কপালে? নিজেকে রামোস বানিয়ে ফেলুন। এতে করে অন্তত অফিস টাইম শুরু হওয়ার এক মিনিট আগে হলেও অফিসে ঢুকতে পারবেন।

৩. বাসায় দেরি করে ফেরার বদভ্যাস থাকলে রামোসকে গুরু মানুন। বাসায় ঢোকার ক্ষেত্রে স্ত্রীর ‘প্রবেশাধিকার নিষেধ’ অমান্য করতে হবে না। দেখতে হবে না তাঁর রক্তচক্ষু। প্রবেশাধিকার হারানোর আগেই বাসায় চলে যান রামোসের মতো, একদম শেষ মুহূর্তে।

৪. বারবার চেষ্টা করেও যাঁরা কিছুতেই প্রেমিকার মন জয় করতে পারছেন না, তাঁরা হতাশ হয়ে পড়বেন না। নিজেকে রামোস হিসেবে তৈরি করুন আর আশায় বুক বাঁধুন। অন্তত ক্রাশের বয়ফ্রেন্ড হয়ে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আপনার চেষ্টা সফল হবেই হবে।

৫. অনেকে উসাইন বোল্ট হওয়ার পরও নিয়মিত বাস, ট্রেন, লঞ্চ মিস করেন। ফেসবুকে নয়, রামোসকে ফলো করুন বাস্তবে। স্টেশন আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে, কিন্তু বাস, ট্রেন, লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার আগ মুহূর্তে আপনি কোনো না কোনোভাবে উঠে পড়বেন বাহনে।

৬. যাঁদের সিজিপিএ দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে এবং হাতে মাত্র এক বা দুই সেমিস্টার বাকি আছে, তাঁদের পড়ালেখার স্টাইল রামোসের খেলার স্টাইলের মতো করে নিতে হবে। দেখবেন, শেষ সেমিস্টারগুলোর রেজাল্ট আপনার এত বেশি ভালো হয়েছে যে আগের ‘দরিদ৶ সিজিপিএ’ও ‘ধনী’ হয়ে যাবে।

৭. বাংলাদেশের ‘গোলশূন্য’ ফুটবলে কোনো একজন প্লেয়ারের নাম রামোস রেখে দেওয়া উচিত। এতে করে বাংলাদেশ ফুটবল দল আর নিয়মিত হারবে না। রামোসের গোলে শেষ মুহূর্তে এসে হলেও দল হয় জিতবে, না হয় ড্র করবে।

৮. বাংলাদেশের সিনেমায় প্রায়ই দেখা যায়, মারামারি শেষে পুলিশ আসে। একই দৃশ্য সব সিনেমায় দেখতে দেখতে দর্শক বিরক্ত। তাই সিনেমার পুলিশদের রামোস হওয়ার ট্রেনিং দিতে হবে। দেখবেন যে সিনেমায় মারামারি শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তেই পুলিশ সেখানে পৌঁছে গেছে। এর ফলে সিনেমাগুলোও মারামারিমুক্ত থাকবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন