সিআইইউতে শরণার্থী পুনর্বাসনবিষয়ক ৯০ দিনের প্রশিক্ষণ কোর্স শেষ

বিজ্ঞাপন
default-image

স্বদেশহীন, বাস্তুহারা, মাতৃভূমিচ্যুত শরণার্থীদের কথা কেউ বুঝি ভাবে না! নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার তাদের ভেতর যে আকুতি, তা হয়তো সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশে অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গাদের মলিন চেহারাগুলোর দিকে তাকালেই ভেসে ওঠে।

শরণার্থীদের পুনর্বাসন, মৌলিক অধিকার ও তাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে চিটাগং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে (সিআইইউ) অনুষ্ঠিত ‘সার্টিফিকেট কোর্স অন ইন্টারন্যাশনাল রিফিউজি ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রোটেকশন’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্স শেষে গত মঙ্গলবার নগরের জামাল খানের সিআইইউ ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। সিআইইউর স্কুল অব ল আইন বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এ কোর্সের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সনদ তুলে দেন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) অ্যাসিস্ট্যান্ট রিপ্রেজেনটেটিভ ভেটন ওরানা। এ সময় তিনি বলেন, ‘শরণার্থী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সব সময় আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাদের অবস্থানকে সমর্থন জোগানো ও নিজ দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিকভাবে জনমত তৈরির কোনো বিকল্প নেই।’ এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে সিআইইউর আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বড় ভূমিকা রাখবেন বলে অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিআইইউর উপাচার্য মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেন, নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে সীমান্ত পাড়ি দেওয়া যে–কারও জন্য ভীষণ কষ্টের। তাই শরণার্থীদের শান্তিপূর্ণ পুনর্বাসনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে স্কুল অব লর উপদেষ্টা মো. জাকির হোসাইন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে জাতিসংঘের ইউএনএইচসিআর। আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষিত করে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে ইতিমধ্যে তাঁরা সব ধরনের সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন, বিষয়টি ইতিবাচক।’

স্বাগত বক্তব্যে স্কুল অব লর সহকারী ডিন মোহাম্মদ আকতারুল আলম চৌধুরী এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার সুরক্ষা, পুনর্বাসনসহ নানান বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

স্কুল অব লর দুই শিক্ষার্থী ইনজয়া ইউনূস ও আতিয়া হক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এ সময় সায়মা চৌধুরী ও আবির মোবারক নামের অপর দুই শিক্ষার্থীও শরণার্থী নিয়ে তাঁদের ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন