অবরোধ-হরতালে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও ওয়ার্কশপ খাতে প্রতিদিন ১০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করেছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা রাজনৈতিক দলগুলোকে অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গতকাল শনিবার ‘অস্থির রাজনৈতিক অবস্থার অবসান চাই’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা এই দাবি ও আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক ছিল বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশে ৫৯০টি সিএনজি স্টেশন আছে, এগুলোতে বিনিয়োগ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। এর ২ হাজার কোটি টাকাই ব্যাংক ঋণ, যা এখন লোকসানি খাত। সিএনজি স্টেশন মালিকেরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অবরোধ-হরতালের কারণে এ খাতের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২ লাখ পরিবার বিপাকে পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশবান্ধব সিএনজি খাতকে রক্ষায় দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সংগঠনের আহ্বায়ক মাসুদ খান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবরোধে সিএনজি স্টেশনগুলোর ব্যবসা ৮০ শতাংশ কমে গেছে। সিএনজি স্টেশনেগুলোতে দাহ্য পদার্থ থাকায় যেকোনো ধরনের নাশকতায় বড় রকমের বিপর্যয় ঘটতে পারে। তিনি রাজনীতিবিদদের প্রতি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আলোচনা করার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সিএনজি খাতকে রক্ষা করতে ব্যবসায়ীরা বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ করে পুনঃ তফসিল করা, বিলখেলাপি স্টেশনগুলোকে বিনা সুদে কিস্তিতে বিল পরিশোধ করার ব্যবস্থা করা, সিএনজি স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক নজীব আহমেদ ও আকতার হোসেন ফয়সাল, নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন