default-image

রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও দুজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে এই রায় দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় এই রায় দেওয়া হয়। 

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার কিছু আগে রায় ঘোষণা করা হয়। 

সিপিবিতে হামলার আজ ১৯তম বার্ষিকী। ২০০১ সালের এই দিনে পল্টনে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলায় মোট পাঁচজন নিহত ও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। 

যাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাঁরা হলেন মুফতি মাঈনুদ্দিন শেখ, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, আরিফ হাসান সুমন, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মহিবুল মুস্তাকিম, আনিসুল মুরসালিন, মুফতি আবদুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান ও নুরুল ইসলাম।তাঁদের মধ্যে মাঈনুদ্দিন, আরিফ, সাব্বির ও শওকত ছাড়া বাকিরা পলাতক।

খালাস পাওয়া দুজন হলেন মশিউর রহমান ও রফিকুল ইসলাম মেরাজ। তাঁরাও পলাতক।

default-image

আদালত সূত্র জানায়, সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার অন্যতম আসামি জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় তাঁকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ওই বোমা হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন খুলনার বটিয়াঘাটার সিপিবির নেতা হিমাংশু মণ্ডল, খুলনার রূপসার দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শ্রমিকনেতা আবদুল মজিদ, ঢাকার ডেমরার লতিফ বাওয়ানি জুটমিলের শ্রমিকনেতা আবুল হাশেম ও মাদারীপুরের সিপিবির কর্মী মোক্তার হোসেন। আর আহত হয়ে পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খুলনা বিএল কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের নেতা বিপ্রদাস রায়।

default-image

বোমা হামলার ঘটনায় সিপিবির তৎকালীন সভাপতি মনজুরুল আহসান খান বাদী হয়ে মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর ১৩ জনকে আসামি করে মামলার অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

default-image

আজ ১৯তম বার্ষিকীতে পল্টনের সমাবেশে বোমা হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সিপিবি। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তি ভবনের সামনে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী বেদিতে আজ সকালে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0