দেশে জনশুমারির কাজ শুরু হয় ১৫ জুন থেকে। আজ ২১ জুন (মঙ্গলবার) মধ্যরাতে তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু হঠাৎ ১৬ জুন সিলেট ও সুনামগঞ্জে ভয়াবহ বন্যা শুরু হয়। এতে পুরো সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে এ দুই জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেননি গণনাকারীরা। মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনায় একই চিত্র। বন্যার কারণে তথ্য সংগ্রহ করা যায়নি এ দুই জেলায়। সে কারণে শুমারির সময় আরও সাত দিন বাড়ানো হয়েছে।

কুড়িগ্রাম, জামালপুরসহ আরও বেশ কয়েকটি জেলা বন্যা আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওই সব জেলায় কেন সময় বাড়ানো হলো না, জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক দিলদার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মাঠপর্যায় থেকে তাঁদের কাছে যে তথ্য এসেছে, তাতে ওই সব জেলা থেকে তথ্য পেতে বেগ পেতে হয়নি। সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা গেছে। সে কারণে চারটি জেলার বাইরে অন্য জেলার জন্য সময় বাড়ানো হয়নি।

তবে বিবিএস বলছে, অন্য জেলার কেউ শুমারি থেকে বাদ পড়লে পরে নাম অন্তর্ভুক্তের সুযোগ আছে। সে ক্ষেত্রে নিজ জেলার বিবিএস কার্যালয়ে গিয়ে তথ্য দিতে হবে।

মঙ্গলবার রাতে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় বন্যাকবলিত এলাকার একাধিক পরিসংখ্যান কর্মকর্তার। তাঁরা বলেছেন, ঢাকা থেকে তাঁদের বলা হয়েছে মাঠে থাকার জন্য। গণনাকারীদেরও তাঁদের এলাকায় অবস্থান করতে বলা হয়েছে। বন্যার পানি নামা শুরু করলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য আনতে বলা হয়েছে তাঁদের। আপাতত বন্যার পানি কমার অপেক্ষায় আছেন তাঁরা।

বিবিএসের তথ্য বলছে, দেশ স্বাধীনের পর এখন পর্যন্ত পাঁচটি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম আদমশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে। এরপর ১৯৮১ সালে দ্বিতীয়, ১৯৯১ সালে তৃতীয়, ২০০১ সালে চতুর্থ ও ২০১১ সালে পঞ্চম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালে পরিসংখ্যান আইনের মাধ্যমে আদমশুমারি শব্দটিকে পরিবর্তন করে জনশুমারি করা হয়। আগের প্রতিটি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল জানুয়ারি থেকে মার্চ এ সময়ে। জরিপ কিংবা শুমারি পরিচালনার জন্য এ তিন মাস সময় বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু এবারই প্রথম বর্ষাকালে জনশুমারি হতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন