default-image

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবজাতকসহ ১০ শিশু মারা গেছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টার মধ্যে এসব শিশু মারা যায়। মারা যাওয়া শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, ‘অবহেলা রোগে’ তাঁদের শিশুরা মারা গেছে। শিশু রোগীর প্রতি চিকিৎসকদের অবহেলাকেই দায়ী করেছেন তাঁরা।

আজ সকালে প্রথম আলোকে দেওয়া হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুস সালামের তথ্যমতে, ২৪ ঘণ্টায় শিশুসহ ৩২ জন মারা গেছে। প্রতিদিন গড়ে এই হাসপাতালে ১৪ জন মারা যায়। কিন্তু শিশুসহ ৩২ জন মারা যাওয়ায় বিষয়টি অস্বাভাবিক বিবেচনায় তদন্ত করা হচ্ছে।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড পরিদর্শন করে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে ৫৬টি শয্যা আছে, কিন্তু ভর্তি আছে ১৬২ শিশু। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত সমস্যায় শিশুদের এখানে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত শিশুদের মধ্যে পাঁচ নবজাতক রয়েছে। গতকাল জন্ম হয়েছিল তাদের। বাকি পাঁচ শিশুর মধ্যে সর্বোচ্চ দেড় বছর বয়সী শিশু রয়েছে। এই পাঁচ শিশুর মধ্যে দুই শিশু গত রোববার থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। অন্য তিন শিশুকে গতকাল হাসপাতালে আনা হয়।

default-image

সিলেট নগরের শেখঘাট এলাকার বাসিন্দা অটোরিকশাচালক আবুল কালাম ও নিলুফা আক্তার দম্পতির প্রথম সন্তানও মারা গেছে। গত রোববার নিলুফা এই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। গতকাল সোমবার শিশুটিকে শিশু ওয়ার্ডে আনা হয়। আজ সকালে শিশুটি মারা গেছে। প্রথম সন্তানের মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন এই দম্পতি কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘কোনো রোগে না, অবহেলা রোগে আমাদের বাচ্চা মারা গেছে।’
তবে হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুস সালাম বলেন, ঠান্ডাজনিত সমস্যা, নিউমোনিয়া ও ডায়রিরার কারণে এই শিশুদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে। চিকিৎসকের অবহেলা ছিল না। তিনি জানান, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটিতে তিনজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন