ভারতে মহামারি আকারে সোয়াইন ফ্লু ছড়িয়ে পড়ছে। পশ্চিমবঙ্গে সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে দুই ব্যক্তি মারা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরসহ সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সীমান্তবর্তী এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, রংপুর, পঞ্চগড়, সৈয়দপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা চোরাকারবারি ও লোকজন হিলির সাতকুড়ি, রেলস্টেশন, মংলা, বিরামপুরের কাটলা, ঘাসুরিয়া, অচিন্তপুর, ভাইগড়, চৌঠা ও দেশমা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাতায়াত করে। এসব চোরাকারবারির সোয়াইন ফ্লু সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। ফলে এসব চোরাকারবারির মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকায় দ্রুত সোয়াইন ফ্লু ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট উপজেলার জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন।
হিলি আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের আহ্বায়ক হারুন-উর-রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন শত শত যাত্রী, ভারতীয় ট্রাকচালক ও তাঁদের সহকারীরা বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন। এ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে শত শত চোরাকারবারি ভারত ও বাংলাদেশে যাতায়াত করছে। ভারতে সোয়াইন ফ্লু ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গে দুজন মারা গেছে। অথচ হিলির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো উদাসীন। সোয়াইন ফ্লু সম্পর্কে সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁরা আতঙ্কে রয়েছেন।
হিলি শুল্ক স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন হিলি স্থলবন্দরে ভারত থেকে ১০০ থেকে ২০০ পণ্যবাহী ট্রাক আসে। বাংলাদেশ থেকেও সপ্তাহে ২০-২৫টি ট্রাক ভারতে যায়।
হাকিমপুর পৌরসভার মেয়র সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হিলিতে সোয়াইন ফ্লু যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তার জন্য শিগগিরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ কবির বলেন, ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় বিরামপুরবাসী সোয়াইন ফ্লু নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছে। চোরাকারবারিদের মাধ্যমে শুধু সোয়াইন ফ্লু ছড়িয়ে পড়া নয়, মাদক চোরাচালান নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন। চোরাচালান প্রতিরোধে এ মাসে সীমান্তবর্তী এলাকায় তিনটি সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে।
দিনাজপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন এমদাদুল হক বলেন, সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চোরাকারবারিদের মাধ্যমে সোয়াইন ফ্লু যাতে ছড়াতে না পারে, সে জন্য বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
হিলি ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তল্লাশি চৌকিতে সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তদের শনাক্ত করা বা এর প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সোলায়মান আলী বলেন, সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধে তাঁদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
বিজিবি দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল হ্লা হেন মং গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান বা অবৈধ লোক পারাপার প্রতিরোধে বিজিবি সচেষ্ট রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন