বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

র‍্যাব বলছে, ২০১৬ সালে শুরু হয় আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়া। ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিন শতাধিক দস্যু র‍্যাবের কাছে ৪৬২টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেন। র‍্যাবের দাবি, আত্মসমর্পণের পর দস্যুদের কেউ পুরান পেশায় ফেরেনি। র‍্যাবের কঠোর নজরদারি ও দস্যুদের পুনর্বাসন এই জনপদকে নিরাপদ করেছে। একসময়ে অন্ধকার জগৎ ছেড়ে কেউ এখন ব্যবসা, কেউ চাকরি আবার কেউ গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।

জলদস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও আগের মামলা, পুলিশের হয়রানি আর নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা যেন পিছু ছাড়তে চাইছে না তাঁদের। আত্মসমর্পণকারী একাধিক জলদস্যু জানিয়েছেন, অনুদানের পাওয়া টাকার একটা বড় অংশ খরচ হচ্ছে মামলা চালাতে।

র‍্যাবের কাছে অস্ত্রসহ ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণ করেন সুন্দরবনের হান্নান বাহিনীর সদস্য জলিল মুন্সি। গতকাল সোমবার বাগেরহাটের রামপালে দস্যুমুক্ত সুন্দরবনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি ও আত্মসমর্পণ করা ব্যক্তিদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি অভিশপ্ত এ পেশা ছেড়ে এখন ভালো আছি। তবে মামলার কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছি।’

দস্যুতা ছেড়ে এখন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী ইউনুস আলী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মাছ ধরে সপ্তাহে তিন-চার হাজার টাকা আয় হতো। এই টাকা দিয়ে ভালোই চলছিল তাঁর সংসার। কিন্তু রাজনীতিতে জড়িয়ে চার মামলায় আসামি হন। বেশ কয়েকবার কারাগারে গিয়েছেন। মামলা চালাতে গিয়ে ঘরবাড়ি ও বাবার সাত বিঘা জমি বিক্রি করে একসময় নিঃস্ব হয়ে যোগ দেন জলদস্যু বাহিনীতে। আট বছরের দস্যুজীবন নিয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাড়িতে যেতে পারতাম না। এ সময়ে পরিবারের অনেকে মারা গেছে, বিন্তু বাড়ি যেতে পারিনি। মাঝেমধ্যে সুন্দরবন থেকে পালিয়ে ঢাকা, বগুড়া ও চট্টগ্রামে গিয়ে থাকতাম। পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে দেখা করত।’

ইউনুস আলী বলেন, ‘একমাত্র ছেলে যেন আমার মতো না হয়, সে জন্য এলাকা ছেড়ে অনেক দূরে থাকি।’

আত্মসমর্পণকারী কয়েকজন সাবেক জলদস্যু অভিযোগ করেন, নতুন ও পুরোনো মামলায় পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁদের গ্রেপ্তার এবং বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে হয়রানি করছেন। তাঁদের একজন ইউনুস আলী (৪৫)। তিনি বলেন, তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে। স্থানীয় থানার এসআই জিল্লুর রহমান তাঁকে আটক করে এবং এক লাখ টাকা দাবি করেন। আত্মসমর্পণের পরও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে কালিগঞ্জ থানার ওসি গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো মামলা বা হয়রানির বিষয় আমার জানা নেই। থানায় কেউ অভিযোগও করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

অন্য পথে গেলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দস্যুমুক্ত সুন্দরবনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ‘খুন ও ধর্ষণের মামলা ছাড়া বাকি সব মামলা আমরা নিষ্পত্তি করব।’ আত্মসমর্পণকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, দয়া করে আপনারা অন্য কিছু চিন্তা করবেন না। যাঁরা মনে করছেন, দস্যুতায় ফিরে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছু করবে না, তারা ভুল ভাবছেন। কেউ অন্য পথে গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গুজব ছড়িয়ে বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল। আমরা তা হতে দিইনি। দেশ নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।’

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আত্মসমর্পণকারী জলসদ্যুদের মধ্যে যাঁরা খুন ও ধর্ষণ মামলার আসামি, তাঁদের ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই। বাকিদের মামলা নিষ্পত্তিতে আমরা আইনানুগ সহায়তা করব।

অনুষ্ঠানে র‍্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘৩২ বাহিনীর ৩১৮ জন দস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন। প্রত্যেকে আমাদের নজরদারির মধ্যে রয়েছেন। যাঁরা র‌্যাবের সঙ্গে থাকবেন, তাঁদের সঙ্গে র‌্যাব থাকবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন