বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শেখ মোহাম্মদ সুলতান (১৯২৩-১৯৯৪) দেশ-বিদেশের শিল্পানুরাগীদের কাছে ‘সুলতান’ নামেই সমাদৃত। ইউরোপ-আমেরিকা ঘুরে এসে খ্যাতির আকাঙ্ক্ষা ছেড়ে সুলতান তাঁর জন্মস্থান নড়াইলের মাসুমদিয়া গ্রামেই থিতু হয়ে আজীবন শিল্পসাধনা করে গেছেন। গ্রামের শিশুদের জন্য গড়ে তুলেছিলেন শিল্পশিক্ষার স্কুল। গ্রামের কৃষিজীবী মানুষ এবং তাঁদের জীবনসংগ্রামকে শিল্পচর্চার বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন তিনি। যাঁরা জমি চাষ করে, ফসল উৎপাদন করে সবার আহারের সংস্থান করেন; সেই মানুষেরাই সুলতানের ভাবনায় উঠে এসেছিলেন সমাজের চালিকা শক্তি হিসেবে। মাটিসংলগ্ন সেই সব মানুষের ভেতরের অমিত শক্তিকে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁদের পেশিবহুল শরীরী অবয়বে।

এই শক্তিমত্তার প্রকাশ কেবল কৃষিজীবী মানব–মানবীতেই সীমিত নয়, বরং তা সম্প্রসারিত হয়েছে তাঁদের জীবনযাত্রার সহায় ও সহযোগী প্রাণী ও প্রকৃতিতেও। তাঁর আঁকা গবাদিপশু–পাখিও বলবান। চর দখলের জন্য দুই পক্ষের যে যুদ্ধের দৃশ্য তিনি এঁকেছেন, সেখানেও মাঠ ফসলে ভর্তি। নদী প্রবহমান। সুলতানের ছবিতে কোথাও ক্ষয়িষ্ণুতা, দুর্বলতা, ভঙ্গুরতার প্রকাশ নেই। আছে সব প্রতিকূলতা জয় করে জীবনের বিকাশ অব্যাহত রাখতে এক বিপুল প্রাণশক্তির অনন্য উন্মেষ। তেলরং রেখাচিত্র, জলরং চারকোল, কালিকলমে সৃজিত পাঁচ দশকের এত শিল্পকর্ম একসঙ্গে দেখতে পাওয়া শিল্পানুরাগীদের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ।

করোনার দুঃসময় অতিক্রম করে জীবনযাত্রা এখন নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার সংগ্রাম করছেন সবাই। মনের শক্তি বৃদ্ধি এখন বড় দরকার। সুলতানের ছবিতে পরাভব না মানা মানবিক শক্তির যে মহিমা উদ্ভাসিত, তা এই কঠিন সময় অতিক্রম করতে অনুপ্রাণিত করবে দর্শকদের।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন