নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন।
গতকাল শুক্রবার সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রহিমা খাতুন ও জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেনের সঙ্গে দেখা করে তিনি এই দাবি জানান।
সোনাইমুড়ীর ১০ ইউপির নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে আজ শনিবার।
গতকাল দুপুরে ইউএনও এবং জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করার পর বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
পরে সাংবাদিকদের বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী, নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, নৌকা প্রতীকে প্রকাশ্যে সিল মারতে হবে বলেও তাঁরা প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ অবস্থায় সর্বত্র ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমিনুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাহবুব উদ্দিন খোকন এলাকায় এসে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে নির্বাচনের পরিবেশ ঘোলা করে তুলছেন।
জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপির নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা চেয়েছেন। আমরা তাঁকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশ্বাস দিয়েছি।’
নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ, বিশেষ আনসার, আনসার-ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে। একই সময় বিজিবি ও র্যা বের সদস্যরা টহলে থাকবেন।
এ ছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াও চারজন বিচারিক হাকিম দায়িত্ব পালন করবেন।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। বিকেলের মধ্যে সব কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে।
নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে বারগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হবে না। বারগাঁও ইউনিয়নে অন্য কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল না করায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
নয়টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ চেয়ারম্যান পদে ৪২ জন এবং ১০টি ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৭১ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন