জামালপুর সদর উপজেলার নরুন্দি ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন সংস্থার (বিএডিসি) গভীর নলকূপটি ১৫ বছর ধরে অকেজো হয়ে আছে। এতে নলকূপটির আওতাধীন প্রায় ২০০ একর জমির মালিকেরা কম খরচে সেচসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিএডিসির এক প্রকৌশলী ঘুষ নিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে গভীর নলকূপটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার পাঁয়তারা করায় এটি চালু করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

ফলে বাধ্য হয়ে প্রায় ৩০০ বোরোচাষি ডিজেলচালিত অগভীর নলকূপের (সেচযন্ত্র)মাধ্যমে সেচ দিয়ে বোরো চাষ করছেন। বেশির ভাগ কৃষক অগভীর নলকূপের খরচ জোগাতে না পেরে জমিতে বোরোর পরিবর্তে অন্য ফসল আবাদ করছেন।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক ও বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণপাড়া এলাকায় ১৯৭৪ সালে বিএডিসির ৫৩ নম্বর গভীর নলকূপটি বসানো হয়। তখন এটি ডিজেলের মাধ্যমে চালানো হতো। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০০০ সালে এটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১২ সালে সরকারের অচল-সচল প্রকল্পের আওতায় অচল গভীর নলকূপগুলো চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু এর পরও তিন বছরেও নলকূপটি চালু হচ্ছে না। ফলে এটির আওতাধীন ওই ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া, চন্দেরচক ও খালপাড়া গ্রামের প্রায় ২০০ একর জমি সেচসুবিধাবঞ্চিত হচ্ছে।

দক্ষিণপাড়ার কৃষক সিদ্দিকুর রহমান জানান, গভীর নলকূপটি চালু না হওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক অগভীর নলকূপের পানিতে বোরো চাষ করেছেন। এক মৌসুমে অগভীর নলকূপে পানি দিতে খরচ লাগে একরপ্রতি কমপক্ষে চার হাজার টাকা আর গভীর নলকূপে ১ হাজার ২০০ টাকা।

চন্দেরচক এলাকার কৃষক হায়দার আলী জানান, তিনি তিন একর জমিতে অগভীর নলকূপের পানিতে বোরো চাষ করছেন। অগভীর নলকূপের পানিতে সেচ দিতে একরপ্রতি খরচ প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। পানির খরচ, সার, শ্রমিক মিলে একরপ্রতি আবাদে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। গভীর নলকূপের মাধ্যমে জমিতে সেচ দিলে তাঁদের খরচ অনেক কম হতো।

দক্ষিণপাড়া এলাকার কৃষক মোখলেছুর রহমানবলেন, শুরু থেকে কৃষক হুরমুজ আলীর বাবা সোহরাব আলী গভীর নলকূপটি পরিচালনা করতেন। গভীর নলকূপটি তাঁদের জমির মধ্যেই স্থাপিত। তিনি মারা যাওয়ার পর হুরমুজ পরিচালনা করছেন। হঠাৎ নরুন্দি পশ্চিমপাড়া এলাকার ছাবেদ আলী বিএডিসির কর্মকর্তাদের হাত করে নলকূপটি পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। বিএডিসির কর্মকর্তা তাঁদের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য নলকূপটি চালু করছেন না।   

হুরমুজ আলী বলেন, ওই নলকূপটি সচল করতে বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী স্বপন কুমার হালদারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। নলকূপটি মেরামত করতে প্রকৌশলীর নির্দেশে ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর সোনালী ব্যাংক জামালপুর বিসিক শাখায় বিদ্যুৎ-সংযোগ বাবদ ১৫ হাজার ও ভূগর্ভস্থ পানির পাইপলাইন বাবদ ১৫ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়। ঠিকাদারের মাধ্যমে নলকূপের ভূগর্ভস্থ পানির সংযোগ ও পাম্পঘর পুনর্নির্মাণ করা হয়। ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর স্বপন কুমার তাঁকে জানান, নলকূপটি সচলে তাঁর (হুরমুজ) করা আবেদনটি মঞ্জুর হয়নি। হুরমুজের অভিযোগ, ওই প্রকৌশলী মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষের বিনিময়ে অন্য একজনকে নলকূপটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। তবে স্বপন কুমার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নলকূপটির ভূগর্ভস্থ পানির পাইপ বসানোসহ মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শুধু বিদ্যুৎ-সংযোগের জন্য চালু করা যাচ্ছে না।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত ইকরাম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, গভীর নলকূপটি চালু হলে এলাকার প্রায় ৩০০ বোরোচাষি কম খরচে সেচসুবিধা পেতেন।

পল্লী বিদ্যুৎ জামালপুরের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) রেজাউল্লাহ খান জানান, প্রথমে কৃষক হুরমুজ আলীর নামে বিদ্যুৎ-সংযোগের জন্য ছাড়পত্র দেয় বিএডিসি। তাঁর নামেই বিদ্যুৎ-সংযোগ অনুমোদন হয়। পরে হুরমুজকে বাদ দিয়ে ছাবেদ আলীর নামে বিদ্যুৎ-সংযোগের জন্য ছাড়পত্র দেন বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী। এসব জটিলতার কারণে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না।  

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন