default-image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের পর গতকাল শনিবার নারায়ণগঞ্জের ভুলতা উড়ালসড়ক (ঢাকা বাইপাস) এবং দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে যাতায়াতে স্বস্তি ফিরবে বলে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দা এবং ওই পথে চলাচলকারী যাত্রীরা।

চালু হওয়ার পর গতকালই এই দুটি পথের সুফল পেতে শুরু করেছেন যাত্রীরা। যানজট এড়িয়ে দ্রুত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে। গতকাল গণভবন
থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু, রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা উড়ালসড়ক, ও গাজীপুরের লতিফপুর রেলওয়ে ওভারপাসের (সড়ক) উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তা খুলে দেওয়া হয়।

উড়ালসড়কের ঢাকা বাইপাস অংশ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ায় স্বস্তি এসেছে পরিবহন চালক, যাত্রী ও এলাকাবাসীর। সরেজমিনে দেখা যায়, যানজট ছাড়াই ঢাকা বাইপাস সড়কের বিভিন্ন যানবাহন ভুলতা উড়ালসড়কের ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে।

চালক ও যাত্রীরা বলেন, ঢাকা বাইপাস (মদনপুর-ভুলতা-জয়দেবপুর) সড়কে রূপগঞ্জের ভুলতার অংশে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হতো। এতে ভোগান্তি পোহাতে হতো যাত্রীসহ বিভিন্ন পরিবহনশ্রমিকদের। তবে গতকাল উড়ালসড়ক চালুর পর যানজট এড়িয়ে চলা যাচ্ছে। আগের তুলনায় বেশ দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছা যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যস্ততম ঢাকা বাইপাস সড়কের ভুলতা অংশের সড়ক প্রায় ফাঁকা। নেই গাড়ির কোনো জটলা। অথচ এত দিন সেখানে যানজটে বহুক্ষণ আটকে থাকতে হতো শত শত যানবাহনকে।

গাড়ির চালক আলমগীর হোসেন বলেন, সড়কের এই অংশে যানজট দুই কিলোমিটার ছাড়িয়ে যেত। এখন উড়ালসড়ক উদ্বোধন হওয়ায় ঢাকা বাইপাস সড়কের ভুলতা অংশে যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হবে না।

ভুলতা উড়ালসড়ক প্রকল্পের পরিচালক রিয়াজ আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভুলতা ফ্লাইওভারের দুটি অংশের মধ্যে ঢাকা-বাইপাসের ফ্লাইওভারের উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামী জুনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা ফ্লাইওভার অংশের নির্মাণকাজ শেষ হবে। ইতিমধ্যে সুফল পেতে শুরু করেছেন যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকেরা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অংশ চালু হলে যাতায়াত আরও স্বস্তির হবে।’

default-image

দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এই সেতু চালু হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী, পরিবহনের চালক ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ব্যবহার করে যেসব যানবাহন চলাচল করে সেসব যানবাহনকে কাঁচপুর সেতু হয়ে যেতে হয়। পরিবহনের চাপ বেশি থাকার কারণে বছরজুড়েই সেতুর দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু নির্মাণের ফলে এই যানজট অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

নতুন সেতু দিয়ে পারাপার হওয়ার সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী শ্যামলী পরিবহনের চালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু চালু হওয়ায় কাঁচপুর এলাকার যানজট কমে যাবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মোল্লা তাসনিম হোসেন জানান, কাঁচপুর সেতু ব্যবহার করে দুটি মহাসড়কের যানবাহন চলাচলের কারণে বছরজুড়েই যানজটের কবলে পড়ে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে ঈদ ও সাপ্তাহিক ছুটির আগের দিন যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে দীর্ঘ যানজট হতো। দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু উদ্বোধনের ফলে যানজট অনেকাংশেই কমে আসবে।

কাঁচপুর সেতুর প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেতুটির ভিত্তি কংক্রিটের ঢালাই। পাঁচটি পিলারের ওপর নির্মিত নতুন এই সেতু ইস্পাতের গার্ডারের। ১০০ বছরের আয়ু নির্ধারণ করে নির্মাণ করা সেতুটির প্রধান ঠিকাদার ছিল যৌথভাবে জাপানি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওবায়শি করপোরেশন, শিমিজু করপোরেশন, জেএফআই, আইএইচআই। সেতুর উপঠিকাদার ছিল বাংলাদেশের মীর আকতার হোসেন। মূল সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয় ১ হাজার ২১৫ কোটি টাকা। চার লেনের সেতুটির দৈর্ঘ্য ৩৯৭ দশমিক ৫ মিটার, প্রস্থ ১৮ দশমিক ৩ মিটার।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0