কক্সবাজারের রামু উপজেলা নৃতাত্ত্বিক উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি প্রায় দুই বছর ধরে অচল পড়ে আছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশিক্ষণার্থীদের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটির এ অবস্থা হয়েছে। ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর নারীরা সেলাই প্রশিক্ষণ নিতে পারছেন না, পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কেন্দ্রের একাধিক সেলাই মেশিনসহ আসবাবও। ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে এটি স্থাপন করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, প্রশিক্ষক নাইছা রাখাইন কেন্দ্রে পায়চারি করছেন। কেন্দ্রের ভেতরে ১০টি সেলাই মেশিন কাপড় দিয়ে মোড়ানো। কর্মচারী কায়েস বড়ুয়াও কেন্দ্রের বাইরে বসে সময় পার করছেন। এ সময় কাউকে প্রশিক্ষণ নিতে দেখা যায়নি।
জানতে চাইলে নাইছা রাখাইন জানান, কেন্দ্রটি চালুর পর প্রথম ব্যাচে ২০ জন রাখাইন মেয়েকে তিন মাসব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর দ্বিতীয় ব্যাচে ১৬ এবং তৃতীয় ব্যাচে ১১ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিন্তু ২২ মাস ধরে এখানে কোনো প্রশিক্ষণার্থী আসছেন না। কারণ, তাঁদের দৈনিক ১০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া যাচ্ছে না। এ সময়ে কেন্দ্রের একজন প্রশিক্ষক ও একজন নৈশপ্রহরীর বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। নানা চেষ্টা-তদবির করেও বকেয়া টাকা পাওয়া যাচ্ছে না।
কেন্দ্রের প্রধান প্রশিক্ষক ক্যছিংউ রাখাইন জানান, পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী, রামুর দুর্গম পানেরছড়া ও বৈদ্যপাড়া থেকে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মেয়েরা টাকা খরচ করে কেন্দ্রে এসে সেলাই প্রশিক্ষণ নিতে পারছেন না। কারণ, তাঁরা অসহায় ও গরিব। তাই সরকারিভাবে প্রশিক্ষণার্থীদের যাতায়াত খরচ বাবদ দৈনিক ১০০ টাকা করে খরচ প্রদান করা হতো। ২২ মাস ধরে সেই টাকা বন্ধ। তাঁদেরও বেতন-ভাতা বকেয়া। প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেও সাড়া মিলছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ হোসেন জানান, অর্থ বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, আপাতত প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে ফি নিয়ে কেন্দ্রটি চালু রাখার জন্য প্রশিক্ষকদের বলা হয়েছিল। কিন্তু এতে প্রশিক্ষণ নিতে কেউ রাজি হচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন