default-image

বেগুনি ঝুলের নিচে লেসের বাহার, বুকে ও গলায় কাজ করা—হাতাকাটা গাউনটির নাম ‘কিরণমালা’। শিশু ও কিশোরীরা এখন এই নামের লম্বা ফ্রক ও গাউনের দিকেই ঝুঁকছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামেও চলছে কোটিওয়ালা গাউন।

default-image

নগরের সেন্ট্রাল প্লাজার গ্ল্যামার কিডজ দোকানের স্বত্বাধিকারী আবদুল গফুর হালের ট্রেন্ডটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এসব পোশাক দেখালেন। ঈদবাজারে বড়দের মতো শিশুদের পোশাকেও এখন ভারতীয় সিরিয়ালের প্রভাব। কেবল সেন্ট্রাল প্লাজা নয়, নগরের বিপণিবিতান, রিয়াজউদ্দিন বাজার, আফমি প্লাজা, মিমি সুপার মার্কেট ও আমিন সেন্টারে ঘুরে এমন পোশাকেরই ছড়াছড়ি দেখা গেল।
হালের এই ট্রেন্ডকে অপসংস্কৃতিই বলতে চাইলেন ডিজাইনার আমেনা রহমান। তাঁর মতে, এবার বর্ষা ঋতুর সঙ্গে মিলিয়ে সুতির পাশাপাশি জর্জেট, শিপন ও সিনথেটিক কাপড়ের গাউন, সালোয়ার–কামিজ ও ফ্রক সোনামণিদের আদর্শ পোশাক হতে পারে। দেশি এবং পাশ্চাত্যের ঐতিহ্যের মিশেলে তৈরি পোশাকে রুচির ছাপটাও থাকা চাই। 
তবে হালের ট্রেন্ডের দিকেই ঝোঁক শিশুদের। নগরের আকবরশাহ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে সেন্ট্রাল প্লাজার একটি দোকানে পোশাক বাছাই করছিলেন। দুই বোন মাহি, রুহি; একজন তৃতীয় ও অন্য জন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। মাহি–রুহির পছন্দ কী? প্রশ্ন করতেই দোকানে ঝুলতে থাকা ক্যাটালগ দেখিয়ে লম্বা ফ্রকের পক্ষেই রায় দিল দুজন। এবারে ঈদে পাঁচ বছরের নিচের মেয়েশিশুদের জন্য মা–বাবারা বেশি পছন্দ করছেন পার্টি ফ্রক। আর পাঁচ থেকে পনেরো বছরের শিশুদের পছন্দ লম্বা ফ্রক, গাউন, ডিভাইডার, লেহেঙ্গা ও সালোয়ার-কামিজ। ওপরে শার্ট বা টি–শার্ট আর নিচে জিনস—এমন মিশেল পোশাক চলছে ওয়েস্টার্ন নামে। 

default-image

আর শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী ছেলেদের বাহারি গোটানো হাতার বম্বে শার্ট, নাইকি, পুমা, অ্যাডিডাজের মতো ব্র্যান্ডের টি–শার্ট চলছে ভালো। আছে ব্যাটম্যান, সুপারম্যানদের মতো সুপার হিরোদের ছবিওয়ালা টি-শার্টও।
নগরের আমিন সেন্টারের মিমি মি দোকানের স্বত্বাধিকারী মোস্তফা মনোয়ার বলেন, এবার মেয়েশিশুরা ডিভাইডার, পার্টি ফ্রক ও লং গাউন পছন্দ করছে। আর ছেলেদের পছন্দ শার্ট, টি–শার্ট, স্টোনওয়াশ জিনস প্যান্ট।
আড়ং বা শৈশবের মতো ব্র্যান্ডের দোকানেও মিলছে পছন্দসই পোশাক। মিমি সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় শৈশবের বিক্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানালেন, এবার ঈদ উপলক্ষে তাঁদের প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ডিজাইনের সুতির ফ্রক, লেহেঙ্গা, টপস ও থ্রিপিস বাজারে এনেছে।
নগরের আফমি প্লাজার মাস ফ্যাশন, আর্টসি ও দেশীদশে মিলছে শিশুদের বাহারি পাঞ্জাবি, ফ্রক ও ফতুয়া। দামও হাতের নাগালে।
দরদাম: অল্প দামে কেনাকাটা করতে চাইলে যেতে হবে রিয়াজউদ্দিন বাজার ও জহুর হকার্স মার্কেটে। এসব বিপণিকেন্দ্রে শিশুদের ফ্রক মিলছে ৫০০ থেকে ২৫০০ টাকায়। টি–শার্ট ১০০ থেকে ৮০০ টাকা।
নগরের অন্য বিপণিকেন্দ্রগুলোয় পোশাকের দামে তেমন হেরফের নেই।
লম্বা ফ্রক ও গাউন এক হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা, পার্টি ফ্রক এক হাজার থেকে দুই হাজার ও সালোয়ার-কামিজ দেড় হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছেলেদের শার্ট ও টি–শার্ট ৭০০ থেকে ২০০০ আর পাঞ্জাবি ৫০০ থেকে ১৭০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

default-image
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0