উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে সিএনজিচালিত অনিবন্ধিত অটোরিকশা চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে ১৬ মে বৃহত্তর চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টার সড়ক পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। গতকাল শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি মোহাম্মদ মুছা এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় সোমবার বাস, মিনিবাস, টেম্পো, অটোরিকশা, হিউম্যানহলার, পণ্যবাহী ট্রাক, মিনি ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যানসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে। আগামী এক মাসের মধ্যে অনিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়াসহ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে। এক মাসের মধ্যে এসব দাবি না মানলে লাগাতর পরিবহন ধমর্ঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন মোহাম্মদ মুছা। তিনি বলেন, হাইকোর্ট গত ২৫ এপ্রিল অনিবন্ধিত অটোরিকশা চলাচলে বাধা না দিতে আদেশ দেন। এ আদেশের অনুলিপি ফেডারেশনের পক্ষে নগর পুলিশ প্রশাসনকে দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরও চট্টগ্রাম নগরে অনিবন্ধিত অটোরিকশা রাস্তায় নামার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। নগর পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, অনিবন্ধিত অটোরিকশার নিবন্ধন নিশ্চিত করতে বিআরটিএ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। পুলিশের বিরুদ্ধে টোকেন বাণিজ্য, ইচ্ছামাফিক গাড়ি রিকুইজেশন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তা বন্ধ করারও দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মেঘনা ও গোমতী সেতুতে ৫০০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ২৫০ টাকা টোল আদায় বন্ধ এবং চট্টগ্রামে বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করারও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চট্টগ্রাম নগরে প্রায় চার হাজার অনিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক রয়েছেন। এই চালকদের আয়ের ওপর তাঁদের পরিবারের ২০ হাজার মানুষ নির্ভরশীল। ধারদেনা করে এসব গাড়ি কেনা হয়েছে।
ফেডারেশনের নেতারা বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরে আট হাজার অটোরিকশায় মিটার সংযোজন বা মেরামত কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু নগরে ১৩ হাজার অটোরিকশা চালানোর অনুমতি রয়েছে। এর মধ্যে জীর্ণশীর্ণ প্রায় পাঁচ হাজার অটোরিকশা রাস্তায় নেই। এতে অটোরিকশার সংকট দেখা দিয়েছে। তাই অনিবন্ধিত অটোরিকশা পাঁচ হাজারের শূন্যস্থান পূরণ করতে পারে। উচ্চ আদালত অনিবন্ধিত গাড়ি চলাচলে বাধা দূর করেছেন। এখন নিবন্ধনের ব্যবস্থা সরকারের করা উচিত।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন পূর্বাঞ্চল কমিটির সভাপতি মৃণাল চৌধুরী বলেন, ফেডারেশনের আওতাভুক্ত ৪৩টি শ্রমিক সংগঠন রয়েছে। ধর্মঘটের সমর্থনে ৪৩টি শ্রমিক সংগঠন ১৬ মে ভোর থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক অলি আহমদ, মোহাম্মদ হারুন, রবিউল মাওলা, আবদুল গফুর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন