বাংলাদেশ থেকে বেসরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে সৌদি আরবে কর্মী যাবেন। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকবে। প্রাথমিকভাবে গৃহকর্মী খাতের ১০ শ্রেণিতে কর্মী পাঠানো শুরু হবে। দেশটি মাসে গৃহকর্মী খাতে ১০ হাজার কর্মী নিতে চায়। পরে অন্যান্য খাতে কর্মী যাবেন।
ঢাকা সফররত সৌদি প্রতিনিধিদল সাক্ষাতের পর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে এসব কথা জানান। তিনি জানান, এবার সৌদি আরবে যেতে কর্মীপ্রতি সর্বোচ্চ খরচ হবে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা।
সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আহমেদ আল ফাহাইদের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল গতকাল সোমবার সকালে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে খন্দকার মোশাররফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। পরে প্রতিনিধিদল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে। বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার মো. ইফতেখার হায়দার।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব। ছয় বছরেরও বেশি সময় এই শ্রমবাজার বন্ধ ছিল। দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী যাওয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সৌদি আরব। এতে আবার খুলে গেছে এই শ্রমবাজার। কোন প্রক্রিয়ায় কর্মী যাবেন, তা চূড়ান্ত করতেই গত রোববার সৌদি প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসেছে।
প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করার পর প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সৌদি শ্রমবাজার বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার। ২০০৮ সালে এই বাজার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তারা আবার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে। আমরা আশা করছি, সৌদি আরব কর্মী নেওয়া শুরু করায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও কর্মী নেওয়া শুরু করবে।’
মালয়েশিয়ায় সরকারিভাবে (জিটুজি) কর্মী পাঠানো শুরু হলেও খুব বেশি কর্মী সেখানে যেতে পারেননি। এই অবস্থায় সৌদি আরবেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় লোক যাবেন কি না, এ প্রশ্নে মন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, বেসরকারি এজেন্সিগুলোর (জনশক্তি রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠান) নানা প্রতারণার কারণেই মালয়েশিয়ায় সরকারিভাবে লোক পাঠাতে হয়েছিল। আর জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা যে লোক পাঠায়, সেটিও তো সরকারি প্রক্রিয়ায় হয়। সরকারি প্রক্রিয়া ছাড়া তো একটা লোকও বিদেশে যেতে পারেন না। এবারও তাই হবে। সৌদি আরবে লোক পাঠানোর পুরোটাই বেসরকারিভাবে হবে। তারাই সব প্রক্রিয়া করবে। সরকার শুধু নিয়ন্ত্রণ করবে।
সৌদি আরবে যেতে খরচের বিষয়ে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আমাদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল খরচ। আমরা এবার নামমাত্র খরচে কর্মী পাঠাতে চাই। একজন কর্মীর সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হবে।’ বেসরকারি প্রক্রিয়ায় গেলে খরচ বাড়বে কি না, কিংবা বেসরকারি রপ্তানিকারকেরা কত টাকা প্রক্রিয়া ফি বাবদ নেবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা তো ব্যবসা করবেই। কত টাকা নিল সেটা বিষয় নয়। আমরা দেখব যেন আকাশচুম্বী ব্যয় না হয়। আর আমরা চাই কর্মীদের কাছ থেকে একটা টাকাও নেওয়া হবে না। যারা লোক নেবে তারাই সে খরচ দেবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে বলছেন ন্যূনতম খরচে সৌদি আরবে লোক পাঠানো সম্ভব নয়। আমি আবারও দায়িত্ব নিয়ে বলছি, সৌদি যেতে একজন শ্রমিকের ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার বেশি খরচ হবে না। আমি হিসাব করেই বলছি। কারণ কর্মীর লেভি, যাতায়াত ভাড়া—সবই নিয়োগকর্তারা দিয়ে দেবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ভিসা কেনাবেচার কারণেই সৌদি আরবে খরচ বেড়ে যায়। এবার ভিসা কেনাবেচা করলে ১৫ বছরের জেল হয়ে যাবে।
সৌদি আরবে কী পরিমাণ কর্মী যাবেন জানতে চাইলে খন্দকার মোশাররফ বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে গৃহকর্মী নেওয়ার ব্যাপারে সৌদি আরব আগ্রহ দেখাচ্ছে। তারা বলছে, মাসে ১০ হাজার কর্মী নেবে। সে হিসাবে বছরে ১ লাখ ২০ হাজার গৃহকর্মী সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। কেবল গৃহকর্মীই যাবেন কি না, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ড্রাইভার, ম্যানেজারসহ ১০টি ক্যাটাগরি আছে গৃহকর্মী খাতে। এ ছাড়া সৌদি আরবে ছয়টি মেগাসিটি হচ্ছে। সেখানেও তারা কর্মী নিতে চায়।
সৌদি আরবে বাংলাদেশের কর্মীদের বেতন কেমন হবে, জানতে চাইলে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, কর্মীদের বেতন ১২০০ থেকে ১৫০০ রিয়ালের মধ্যে হবে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সৌদি উপমন্ত্রী আহমেদ আল ফাহাইদ বলেন, ‘গত বছর আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে ১৩ লাখ শ্রমিক নিয়েছি। এ বছরও একই পরিমাণ শ্রমিক নেওয়া হবে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন