বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে শারমীনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর মৃত্যুসনদে দেশের যে মুঠোফোন নম্বরটি দেওয়া ছিল, সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বিমান কর্তৃপক্ষ প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিমানবন্দরে স্থাপিত প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

পরে এ ডেস্কের পক্ষ থেকে নানা মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত লাশ পৌঁছানোর খবর শারমীনের পরিবারকে জানানো সম্ভব হয়।

শারমীনের খালাতো ভাই মিলন হাসান জানান, এর আগেও একবার শারমীনের লাশ দেশে আসবে বলে তাঁদের জানানো হয়েছিল। সে সময় লাশ আসেনি। লাশ দেশে পৌঁছে গেছে, সেটি জানতে পারেন রোববার দুপুর ১২টার দিকে। খবর পাওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে শারমীনের বাবা, তিনিসহ মোট পাঁচজন লাশ নিতে রওনা হন।সন্ধ্যা সাতটার দিকে মিলন হাসানের সঙ্গে আবার কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি জানান, রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যাম। অ্যাম্বুলেন্স পেতেও সময় লাগছে অনেক। ঢাকায় আসার পরও নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে আবার কখন বাড়ির পথে রওনা দিতে পারবেন, তা–ও বুঝতে পারছেন না।

বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের সহকারী পরিচালক ফখরুল আলম সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, শারমীনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সমস্যায় লাশটি এখনো বিমানবন্দরের ফ্রিজারেই আছে। শারমীনের পরিবারের সদস্যরা পৌঁছানোর পর লাশ পরিবারের স্বজনের কাছে হস্তান্তর করবে বিমান কর্তৃপক্ষ। পরে কল্যাণ ডেস্ক বিভিন্ন কাগজপত্র যাচাই–বাছাই করে শারমীনের পরিবারকে লাশ দাফন ও পরিবহন ব্যয় হিসেবে ৩৫ হাজার টাকার একটি চেক তুলে দেবে। এরপর শারমীনের সব তথ্য চলে যাবে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কাছে। সেখান থেকে যাচাই–বাছাই শেষে শারমীনের পরিবার পাবে তিন লাখ টাকার চেক। কর্মী বিদেশে আত্মহত্যা বা হত্যার শিকার হলে দূতাবাসের মাধ্যমেই ক্ষতিপূরণ বা আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

ফখরুল আলম জানালেন, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, মাসে গড়ে বিভিন্ন দেশ থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ নারী-পুরুষ কর্মীর লাশ দেশে ফিরছে।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শারমীন সৌদি আরবে যান দুই বছর আগে। স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। আট বছর বয়সী সন্তান আছে। সে থাকে শারমীনের মায়ের কাছে। শারমীনের বাবা ও ভাই টুকটাক ব্যবসাসহ কৃষিকাজ করেন।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৫০০ নারী শ্রমিকের লাশ দেশে এসেছে। এদের মধ্যে প্রায় ২০০ জনের মৃত্যুসনদেই মৃত্যুর কারণ লেখা হয়েছে ‘আত্মহত্যা’।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বললেন, অনেক নারীর লাশ দেশে ফিরছে শুধু আত্মহত্যা লেখা একটি মৃত্যুসনদ নিয়ে। এই নারীরা কেন আত্মহত্যা করলেন, তা নিয়ে কখনো কোনো তদন্ত হয়েছে, তার নজির নেই। মৃত্যুসনদে আত্মহত্যা লেখা থাকলেও এই নারীদের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন