বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তারাকান্দা উপজেলার সবচেয়ে বড় খেলার মাঠ এটি। উপজেলার বড় বড় খেলার আয়োজনগুলো এ মাঠে হতো। এটি তারাকান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাঠ। মাঠটি ভাড়া দেওয়ায় সব ধরনের খেলার আয়োজন বন্ধ রয়েছে। মাঠটি স্কুলের এক পাশে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাঠটি ভাড়া নিয়ে চারদিকে টিনের সীমানাপ্রাচীর দিয়েছে। প্রাচীরের ভেতর ভবন করে সেখানে অফিস করেছে। মাঠে পাথর ভাঙার কাজ করার শব্দ আর ধুলার কারণে এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। পাথর ভাঙার শব্দ আর ধুলার কারণে মাঠের পাশের তিনটি বাড়ির মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। শহীদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি নিজের বাড়ি ছেড়ে তারাকান্দা উপজেলা সদরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন।

default-image

খেলার মাঠটি ভাড়া নেওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম রানা বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিডেট। স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে স্কুল কর্তৃপক্ষ মাঠটি ছয় মাস মেয়াদে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেয়। ছয় মাসের ভাড়া বাবদ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেয়। ২০২১ সালের মার্চে ছয় মাস মেয়াদ পূরণ হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরও এক বছরের জন্য মাঠটি ভাড়া নেয়। এক বছরের জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ মাঠের ভাড়া বাবদ নেয় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।
রানা বিল্ডার্সের ময়মনসিংহ-শেরপুর মহাসড়ক সংস্কারকাজের প্রকল্প পরিচালক সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, কাজ শুরুর সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একটা জায়গা দরকার ছিল। ওই সময় বর্ষাকাল থাকায় চারদিকে জমিতে পানি ছিল। যে কারণে স্কুলের মাঠটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। ওই সময় করোনার কারণে স্কুলও বন্ধ ছিল। এখন স্কুল খুলে গেলেও জুন মাস পর্যন্ত এখানে পাথর ভাঙার কাজ হবে।

জানতে চাইলে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন মো. নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পাথর ভাঙার উচ্চশব্দ স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় রকমের স্বাস্থ্যঝুঁকি। এ ছাড়া পাথর ভাঙার গুঁড়া বাতাসে মিশে গেলে শ্বাসকষ্টজনিত রোগের আশঙ্কা থাকে।

সোমবার সরেজমিনে তালদিঘী গ্রামে দেখা যায়, স্কুলের মাঠটিতে পাথরের বিশাল স্তূপ। পাশেই চলছে পাথর ভাঙার কাজ। মাঠের ভেতর রয়েছে ভারী ভারী যন্ত্র। স্কুলের মাঠ থেকে মহাসড়ক পর্যন্ত সড়কটি ভেঙে গেছে। ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাথরবোঝাই ট্রাক।
তালদিঘী গ্রামের বাসিন্দারা জানান, খেলার মাঠটিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাথর ভাঙার কাজের জন্য শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিতে রয়েছে। সারাক্ষণ বড় বড় ট্রাক চলাচল করায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

তালদিঘী গ্রামের বাসিন্দা খোকন মিয়া বলেন, সারা দিন এবং প্রায় সারা রাত চলে পাথর ভাঙার কাজ। যে কারণে এলাকার মানুষ রাতে ঘুমাতে পারে না। এ ছাড়া স্কুলের মাঠটি ভাড়া দিয়ে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।


তালদিঘী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুলাল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘খুব প্রভাবশালী রাজনৈতিক চাপের কারণে তারাকান্দার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমতি নিয়েই মাঠটি আমরা ভাড়া দিয়েছি। ভাড়ার টাকায় স্কুলের উন্নয়নকাজ হবে। মার্চ মাসে ভাড়ার মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে আর ভাড়া দেওয়া হবে না।’


তারাকান্দা উপজেলার বর্তমান ইউএনও মিজাবে রহমত বলেন, ভাড়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে এটি কেন ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন