পাঠক কমার কারণ হিসেবে তিনটি বিষয়ের কথা বলছেন গণগ্রন্থাগারের কর্মকর্তারা। সেগুলো হলো বসার স্থান মাত্র এক শ, সংগ্রহে থাকা বইয়ের এক-তৃতীয়াংশই বাক্সবন্দী ও স্থানটি যাতায়াতের জন্য সুবিধাজনক নয়।

গতকাল সোমবার দুপুরে গণগ্রন্থাগারে প্রবেশ করে দেখা যায়, সব মিলে ২০ জন পাঠক উপস্থিত। অধিকাংশ পাঠক বললেন, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে এখানে এসেছেন। রাজধানীর শ্যামলী থেকে আহসান কাবির আসেন খাতাপত্র নিয়ে চাকরির প্রস্তুতির জন্য পড়তে।

জানতে চাইলে গ্রন্থাগারিক সেলিনা ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কেউ গ্রন্থাগারের বই না নিয়ে নিজের পড়া পড়লে বাধা দেওয়া যায় না। তবে বাইরের বই নিয়ে প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে।

বসার জন্য মাত্র এক শ আসনের বিষয়ে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হামিদুর রহমান বলেন, শিশু কর্নারসহ শাহবাগে পাঠকের বসার ব্যবস্থা ছিল চারটি স্থানে। এখানে একটিতেই কাজ চালাতে হচ্ছে। নতুন ভবনের কাজ শেষ হলে এ সমস্যার সমাধান হবে। পাঠাগার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি জানালেন কম বাজেটের কথা। এই প্রতিষ্ঠানের আওতায় থাকা দেশের ৭১টি গণগ্রন্থাগারের বই কেনার জন্য এখন বরাদ্দ মাত্র দুই কোটি টাকা। এক দশকে বরাদ্দ বেড়েছে মাত্র এক কোটি টাকা।

শাহবাগে অবস্থিত সেই লাল সিঁড়ির পাবলিক লাইব্রেরির জায়গায় হবে বহুতল ভবন। তিন বছরের এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে ২০২১ সালের জুনে। তবে এক বছর ধরে চলছে শুধু ভবন ভাঙার কাজ। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৪ সালে। গ্রন্থাগারটির সব বই স্থানান্তর করা হয়েছে সাময়িক পাঠাগারে। কিন্তু তাদের সংগ্রহে থাকা ২ লাখ ২৪ হাজার ৬০৬ বইয়ের মধ্যে ৬৫ হাজার ৪৯৪টি তাকে রাখা সম্ভব হয়েছে। বাকি বই বাক্সবন্দী রয়েছে। কর্মকর্তারা জানালেন, আইইবি ভবনে এখন দুটি তলায় কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এক বছরের মধ্যে আরও একটি তলা ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এটি হলে আরও কিছু বই তাকে রাখা যাবে।

নতুন জায়গায় এসে আলমারিতে আটকা আছে দুষ্প্রাপ্য বইও। শাহবাগে থাকতে পাঠাগার থেকে ফটোকপি করার ব্যবস্থা থাকলেও এখন নেই। শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র মাঝেমধ্যে সমস্যা করে। তাকে স্থান না পাওয়ায় বিশ্বকোষ, বাংলাপিডিয়া বা এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ বইগুলো দ্রুত খুঁজে পাওয়া গেল না। বর্ষীয়ান পাঠকেরা সাধারণত এসব গ্রন্থ খোঁজেন। একটি টেবিল পেতে আপাতত শিশু কর্নার করা হলেও শিশু পাঠক একেবারেই অনুপস্থিত। তবে পাঠাগারের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট উপস্থিত পাঠকেরা।

শাহবাগে ভবন নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই বছর আইইবি ভবনেই থাকার কথা গণগ্রন্থাগারের। এই দুই বছরে পাঠকবিমুখ হওয়ার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন উপস্থিত কয়েকজন পাঠক। এই সীমিত ব্যবস্থায় সংগ্রহে থাকা এক-তৃতীয়াংশ বই পড়তে পারবেন না পাঠক, যার সংখ্যা দেড় লাখের বেশি। দীর্ঘদিন বইগুলো বাক্সবন্দী থাকলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে পাঠাগারের কর্মকর্তারাও।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন