বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মেলা কেন্দ্র করে এত মানুষের সমাগমে সুন্দরবনের বিপুল ক্ষতি হয়। এ সময় প্রচুর হরিণ শিকার ও বৃক্ষ নিধন করা হয়। পাশাপাশি মানুষের ফেলে যাওয়া বর্জ্যে পরিবেশদূষণ হয়। বন বিভাগ থেকে সুন্দরবনের এসব ক্ষতির বিষয় তুলে ধরে তা নিয়ন্ত্রণে অনেকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। ফলে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কাছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় মেলাটি বন্ধের অনুরোধ জানায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয় বিধায় রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা ও পুণ্যস্নান চালু রাখা হবে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে রাসমেলা ২০২১ সাল থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং এ সময়ে পুণ্যার্থী বা তীর্থযাত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়া অন্যরা সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবে না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবনের বাগেরহাটে মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে সমুদ্রের কোল ঘেঁষে দুবলারচরে প্রতিবছর কার্তিক মাসের শেষ বা অগ্রহায়ণের শুরুতে শুক্লপক্ষের পূর্ণিমায় রাসমেলা বসে। সেখানে সব সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। প্রায় আড়াই শ বছর আগে যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যের শাসনামলে ওই মেলা চালু হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে যাঁরা কৃষ্ণের অনুসারী তাঁরা এই দিনটি রাধা ও কৃষ্ণের বিহারের সময় হিসেবে ওই পূজা ও মেলা শুরু করেন। তবে এই মেলার মাধ্যমে প্রকৃতি বন্দনাও হয়ে থাকে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খুলনার সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কাদির প্রথম আলোকে বলেন, রাসমেলা হিন্দুধর্মের অনুসারীদের জন্য হলেও সেখানে অন্য ধর্মের মানুষেরাও আসেন। এত মানুষের আগমনে বনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। দুবলারচরে রাসমেলা বন্ধ করা হলেও তা খুলনা বা বাগেরহাটের আশপাশের কোনো এলাকায় চালু করা যেতে পারে। তবে সুন্দরবনের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করতে দেওয়া ঠিক হবে না।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন