প্রমত্ত পদ্মার বুকে পিলারের ওপর স্প্যানের সঙ্গে স্প্যান জোড়া লেগে যেমন সেতু পূর্ণতা পেয়েছে, ঠিক তেমনি তাঁদের সম্পর্কও পূর্ণতা পেয়েছে সন্তান লাভের মাধ্যমে। তানিয়া ও মাসুদের প্রেমের গল্পটা শুরু হয়েছিল প্রথম বর্ষ থেকেই। একই অঞ্চলে গ্রামের বাড়ি হওয়ার কারণে প্রথম বর্ষ থেকেই জানাশোনা। সাত বছরের প্রেম পরিণয়ে গড়ায় ক্যাম্পাস ছাড়ার পরপরই। তাঁদের বিয়ের কিছুদিন পরই পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। তানিয়া যখন নিজের শরীরে সন্তানের অস্তিত্ব অনুভব করেন, তখন উত্তাল পদ্মার বুকে সেতুও দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে ধীরে ধীরে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা পরই জন্ম হয় তানিয়া-মাসুদ দম্পত্তির প্রথম সন্তান। তাই তাঁরা পুত্রসন্তানের নাম রাখেন স্বপ্ন।

স্বপ্নর জন্মের পর প্রথম বাড়ি যাচ্ছেন তাঁরা। আর তাঁদের সন্তান, স্বপ্ন প্রথমবারই ঈদে বাড়ি যাচ্ছে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে। এরচেয়ে আনন্দের, এর চেয়ে খুশির আর কিছু নেই তাঁদের কাছে। মাসুদ আলম বলেন, ‘বাবু যখন তানিয়ার গর্ভে, তখন চাকরির কারণে আমাকে কিছুদিন থাকতে হয়েছে বাগেরহাট জেলায়। তাই মন চাইলেও পদ্মা সেতু না থাকার কারণে দ্রুত ঢাকায় স্ত্রীর কাছে আসা সম্ভব ছিল না। ভিডিওকলেই কথা বলতাম। খোঁজখবর নিতাম অনাগত সন্তানের। এ রকম কষ্ট শুধু একা আমারই নয়, আমাদের অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের।’ বলতে বলতে চোখ ভিজে যায় মাসুদ আলমের। পাশে থাকা তানিয়াও চোখ মোছেন। দুজনের চোখেই আনন্দ–অশ্রু।

এই আনন্দ–অশ্রু এখন দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো-কোটির মানুষের চোখে। নিজ নিজ স্বপ্ন নিয়েই এবার ঈদে আপনজনের টানে তাঁদের স্বপ্ন যাবে বাড়ি। পথের দুর্বিষহ ভোগান্তি আর ফেরিঘাটের অনিশ্চয়তা দূরে রেখে মাসুদ-তানিয়ার সন্তান স্বপ্নর মতো অনেক নতুন মুখ নিশ্চিন্তে মা–বাবার সঙ্গে সহজেই পাড়ি দেবে পদ্মা সেতু।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন