সরকারপ্রধান বলেন, ‘এই বাংলাদেশে ১৫ আগস্টের যে হত্যাকাণ্ড ঘটে গেছে এবং এরপর ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, আমার জীবনের ওপর বহুবার হামলা, ৭৪ সালে কামালের (শেখ কামাল) ওপর হামলা হলো। তাঁকেও গুলি করে হত্যার চেষ্টা হলো। যখন দেখল সে বেঁচে গেছে, তাঁর নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হলো। অর্থাৎ, পরাজিত শক্তি সব সময়ই এ ক্ষেত্রে সক্রিয় ছিল।’

বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রদের ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আজ বাংলাদেশের প্রতিটি অর্জন—সেই মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন বা যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সব সময় ছাত্ররাই করেছেন। তাঁরাই সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন।

জাতির জনকের অমোঘ বাণী ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ছাত্রলীগের ইতিহাস’ উল্লেখ করে তা সবাইকে মনে রাখার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এ ধরনের বাধা-বিঘ্ন আসতেই থাকবে। কিন্তু সৎ পথে থাকলে, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও আদর্শ নিয়ে যদি চলা যায়, তাহলে যেকোনো কঠিন পথ পাড়ি দিয়েও অবশ্যই সাফল্য অর্জন করা যায়। তবে, এটাও ঠিক, সত্যের পথ সব সময় কঠিন হয়। আর সেই কঠিন পথকে যাঁরা ভালোবেসে গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে পারেন, তাঁরাই সাফল্য আনতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার নামটা মুছে ফেলতে চাইলেও আজ ৭ই মার্চের ভাষণ আন্তর্জাতিক প্রামাণ্য দলিলে স্থান পেয়েছে। তেমনি বঙ্গবন্ধুর নামও সারা বিশ্ব জানে। আর কারও পক্ষে এটা মুছে ফেলা সম্ভব নয়। সেটা সম্ভব হয়েছে কারণ, আমরা তাঁর (জাতির পিতার) আদর্শ নিয়ে চলেছি, লক্ষ্য স্থির করে চলেছি।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন সবাই। অনুষ্ঠানে জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাংসদ আবদুর রহমান।

ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খানের সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের বাৎসরিক প্রকাশনা ‘জন্মভূমি’ ও ‘জয় বাংলা’ ম্যাগাজিনের (২য় সংস্করণ) মোড়ক উন্মোচন করেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন