বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রকল্প অনুসারে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে একেকটি স্বাভাবিক প্রসবের জন্য ২ হাজার ৮৫০ প্রণোদনা দেওয়া হবে। অন্তঃসত্ত্বা এবং তাঁকে যিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসবেন ও প্রসবে যিনি সহায়তা করবেন—এই তিনজনকে প্রণোদনার অর্থ দেওয়া হবে।

গত ১৩ জুলাই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি সভায় পাইলটিং আকারে আটটি বিভাগ থেকে আটটি উপজেলায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবসেবা বাড়ানো এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবে অংশ নেওয়া ও সেবা দানকারীদের প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী ডিজিএফপির জেলা কার্যালয়গুলোতে চিঠি পাঠানো হয়।

ভারতে মহারাষ্ট্রে এ ধরনের প্রণোদনা খুব ভালো ফল এনেছে। মহারাষ্ট্রের প্রকল্প এলাকাগুলোর বাড়িতে এখন প্রসব ‘শূন্যের কোঠায়’।
অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগম, সভাপতি, ওজিএসবি

চিঠিতে বলা হয়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে স্বাভাবিক প্রসবসেবা চালু করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রণোদনা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। যেসব উপজেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো তুলনামূলকভাবে ভালো এবং জনবল যেমন উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা, পরিবারকল্যাণ পরিদর্শক, আয়া ও অফিস সহকারী বা নিরাপত্তা প্রহরী আছে, সেসব উপজেলার নাম অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। প্রয়োজনে জেলার অন্য উপজেলা থেকে নির্বাচিত উপজেলায় জনবল পদায়ন করে সমস্যা সমাধান করতে হবে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শরীফ গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, পাইলট প্রকল্পের জন্য আটটি উপজেলা বাছাইয়ের কাজ চলছে। আর্থিক সহায়তার জন্য দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালের তিনটি উপজেলায় সেভ দ্য চিলড্রেন আর্থিক সহায়তা দিতে রাজি হয়েছে। এ বছরের মধ্যে প্রকল্পটি শুরু হবে। সফলতা পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মোহাম্মদ শরীফ বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ও স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহিত করাই মূল উদ্দেশ্য। স্থানীয় পর্যায়ে দালালের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালগুলো অন্তঃসত্ত্বাকে পর্যবেক্ষণে রাখে এবং প্রয়োজন না থাকলেও আর্থিক লাভের জন্য অস্ত্রোপচারে শিশু জন্মে উৎসাহিত করে। প্রণোদনা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুসারে প্রসূতিকে দেড় হাজার টাকা, যিনি ওই প্রসূতিকে হাসপাতালে এসে প্রসবে উদ্বুদ্ধ করবেন, তাঁকে ৫০০ টাকা এবং সেবাদানকারীকে (পরিবারকল্যাণ পরিদর্শক) ৫০০ টাকা, অন্য ব্যয়সহ মোট ২ হাজার ৮৫০ টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে সারা দেশে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে ৩ হাজার ৩৬৪টি। গত বছর এসব কেন্দ্রে ১ লাখ ৮ হাজার ৬৭৬টি সন্তান প্রসব হয়। এ বছরের প্রথম সাত মাসে প্রসব হয়েছে ৬২ হাজার ৭০৩টি। কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রোপচারে শিশু জন্মের কোনো ব্যবস্থা নেই। দেশে প্রতিবছর গড়ে ২৩–২৪ লাখ প্রসবের ঘটনা ঘটে। এগুলোর মধ্যে ৫০ শতাংশই বাড়িতে হয়ে থাকে।

পাইলট প্রকল্পের বিষয়ে স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যায় বিশেষজ্ঞ–চিকিৎসকদের সংগঠন অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সভাপতি অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগম প্রথম আলোকে বলেন, যেকোনো ইতিবাচক পদক্ষেপই সাধুবাদ পাওয়ার মতো। বাংলাদেশসহ চারটি দেশে মাতৃস্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে কাজ করে ওজিএসবি। সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগম বলেন, ভারতের মহারাষ্ট্রে এ ধরনের প্রণোদনা খুব ভালো ফল এনেছে। মহারাষ্ট্রের প্রকল্প এলাকাগুলোর বাড়িতে এখন প্রসব ‘শূন্যের কোঠায়’। তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্পে এমন একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে, যাতে মায়ের অবস্থা গুরুতর হওয়ার আগেই হাসপাতালে আনা হয়। স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করার সময়ও একজন মায়ের অবস্থা যেকোনো সময় খারাপ হতে পারে। ওই মাকে কীভাবে, কোথায় পাঠাতে হবে, সেই ব্যবস্থা থাকতে হবে। সবার আগে জনবল সমস্যার সমাধান করতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন