বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খাদ্য, কৃষি ও শিল্প

প্রয়োজনীয় ও মানসম্পন্ন খাদ্য সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। ভূখণ্ডের তুলনায় জনবহুল বাংলাদেশের পক্ষে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া কঠিন ছিল। স্বাধীনতার পর অর্থাৎ ১৯৭০–এর দশকে বছরে ১৫ থেকে ১৭ মিলিয়ন টন চাল উৎপাদিত হতো। আর এখন বছরে চাল উৎপাদিত হয় ৫০ মিলিয়ন টনের বেশি।

যদিও এই সময় জনসংখ্যা বেড়েছে। পাঁচ দশক আগে দেশের মানুষ ছিল সাড়ে সাত কোটি, তখন জনপ্রতি চালের চাহিদা ছিল ৪৭৫ গ্রাম। এখন জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯০ লাখ—জনপ্রতি চালের চাহিদা ৫৫০ গ্রাম। সময়ের ব্যবধানে জনসংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে, পাশাপাশি জনপ্রতি চালের চাহিদাও বেড়েছে। এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে পেরেছে বাংলাদেশ। এর প্রমাণ, বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করা মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত কমে যাচ্ছে।

এটা সম্ভব হয়েছে কৃষি ও খাদ্যনীতির কারণে। দেশে কৃষিজমির পরিমাণ কমে এলেও জমির উৎপাদনশীলতা অনেক বেড়েছে। গরু–ছাগল, মাছ ও হাঁস–মুরগির চাষ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এসবের ফলে দেশের মানুষের চাল, শাকসবজি, মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ খাওয়ার পরিমাণ বেড়েছে। দেশের মানুষের পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতিতে কৃষি ও খাদ্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

শিক্ষার ভূমিকা

স্বাস্থ্যের উন্নতির সঙ্গে শিক্ষার গভীর যোগসূত্র আছে। শিক্ষিত মানুষ সহজে স্বাস্থ্যের তথ্য ও বার্তা পায়। শিক্ষিত মায়ের শিশুরা অপুষ্টিতে কম ভোগে। এ রকম আরও উদাহরণ আছে।

বাংলাদেশ শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে বহু নীতি, উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নিতে দেখা গেছে। স্বাধীনতার পর প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ছিল ২০ শতাংশের নিচে। এখন এই হার ৭৫ শতাংশের কিছু বেশি। দেশে সরকারি ব্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা বিনা বেতনে চলছে। অন্যদিকে বিনা বেতনে মেয়েরা স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পারেন। নারীশিক্ষার অগ্রগতি নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়েছে, নারীর ক্ষমতায়ন ঘটিয়েছে। এর সুফল পেয়েছে স্বাস্থ্য খাত।

২০২০ সালের অক্টোবরে ইউনিসেফের এক প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশের মেয়েরা ১০ বছর স্কুলে কাটালে তাদের মধ্যে বাল্যবিবাহ কম হয়। সময়টি ১২ বছর হলে বাল্যবিবাহ ৫০ শতাংশ কমে যায়। অন্যদিকে বাল্যবিবাহ কমে যাওয়ার অর্থ অপরিণত বা অপুষ্ট শিশু জন্ম কম হওয়া।

সর্বশেষ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ (২০১৭–১৮) বলছে, ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই ৭৫ শতাংশ নিরক্ষর নারীর বিয়ে হয়ে যায়। উচ্চমাধ্যমিক পাস বা তার চেয়ে বেশি শিক্ষা পাওয়া নারীর ক্ষেত্রে সেই হার ৩১ শতাংশ। নিরক্ষর নারীদের চেয়ে শিক্ষিত নারীদের মধ্যে মোট প্রজনন হার কম। নিরক্ষর নারীদের মাত্র ৬ শতাংশ জরুরি জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সম্পর্কে জানেন। উচ্চমাধ্যমিক পাস বা তার চেয়ে বেশি শিক্ষা পাওয়া নারীর ক্ষেত্রে এই হার ৪৪ শতাংশ।

default-image
গবেষণায় দেখা গেছে, মাতৃমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি, নারীর শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নতি।
আহমেদ মোশতাক রাজা চৌধুরী, জনস্বাস্থ্যবিদ

শিক্ষা থাকলে প্রসূতি বা প্রসূতির পরিবার স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নিতে পারে। নিরক্ষর মায়েদের ৭৩ শতাংশ কোনো না কোনো প্রসবপূর্ব সেবা পান। উচ্চমাধ্যমিক পাস বা তার চেয়ে বেশি শিক্ষা পাওয়া মায়ের ক্ষেত্রে এই হার ৯৯ শতাংশ। এই পার্থক্য প্রসবের ক্ষেত্রেও থেকে যায়। নিরক্ষর মায়েদের ৫১ শতাংশ দক্ষ চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রসবসেবা পান, অন্যদের ক্ষেত্রে এই হার ৯৩ শতাংশ।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জনস্বাস্থ্যবিদ ও বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের আহ্বায়ক আহমেদ মোশতাক রাজা চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের উন্নতিতে অন্য খাতের ভূমিকা আছে। যেমন বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে বেশ সাফল্য দেখিয়েছে। কিন্তু মাতৃমৃত্যু কমানোর জন্য জরুরি প্রসূতিসেবার পরিধি ততটা বাড়ানো সম্ভব হয়নি। গবেষণায় দেখা গেছে, মাতৃমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি, নারীর শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নতি।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন